আজ শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, যারা রাজনীতি করে সবারই অর্থের প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশের রাজনীতি হলো, এক বছর আগে যার রিকশা ভাড়া ছিল না, পরের বছর দেখা যায়; ঢাকাতে ফ্ল্যাট কিনছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপি এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, কোনো একটা পদ পেলে কিংবা কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা পেলে চাঁদাবাজি করে হোক, দুর্নীতি করে হোক, নিজের পদ বিক্রি করে হোক; বিশাল অর্থসম্পদের মালিক হয়ে যায় রাজনৈতিক দলের নেতারা। গত ১৬ বছরে যে লুটপাট হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকার করেছে, এক কথায় অকল্পনীয়। বাইরের দেশে বাংলাদেশ একটা লুটেরা জাতি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, একেকটা মন্ত্রীর ৩০০-৪০০ করে বাড়ি, লন্ডন, আমেরিকা, ডুবাইতে। সীমাহীন লুটপাট তারা করেছে, অবশেষে আল্লাহর গজব তাদের ওপর এসেছে। তারা ভেবেছে কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে, এভাবে লুটপাট করে যাবে। আল্লাহর গজব তাদের উপরে পড়েছে।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, আওয়ামী লীগের উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে আছে। অন্যায় অপরাধ লুটপাট সন্ত্রাস করলে কী হয় ফলাফল তো দেখছেন সবাই। ২০১৮ সালে নির্বাচন করতে এসেছিলাম (ভোলা-৩, লালমোহন-তজুমদ্দিন আসনে)। লঞ্চঘাট থেকে মিছিল করে বাড়িতে যাওয়ার পর পুলিশ এসে আমার বাড়িটা ঘিরে ফেলল। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার বাসার চারিদিকে অবস্থান নিল, নির্বাচনের দিনও ঘর থেকে বের হতে পারলাম না। ৬ বারের এমপি গৃহবন্দী, এই ছিল আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন। তারা ভেবেছিল এভাবেই দিন যাবে।

স্পিকার আরও বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই, বাংলাদেশের সাহসী ছাত্র সমাজকে, তাদের অভিভাবকদেরকে এবং যেসব রাজনৈতিক দল এ মাফিয়াদের বিরোধিতা করেছে। তারা এ মাফিয়া সরকারকে বিদায় করে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে। অনেক রাজনৈতিক দল এখানেও আছে (তজুমদ্দিন উপজেলায়) দেশেও আছে। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ হল- দলবাজি আর করবেন না। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে কোনো ধরনের হয়রানি করবেন না।

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জামায়াতে ইসলামী ভদ্রলোকের দল, সংসদে তারা খুব ভালো ব্যবহার করে। একসময় তারা আমাদের মিত্র দল ছিল। তাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা এবং বিএনপি মিলেমিশে চলবেন। যারা মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল, এ ঐক্য যেন না ভাঙে। ঐক্য ভাঙলে ভারত থেকে আবার চলে আসবে দাদারা। তারা এসে আবার এদেশে আগের মতো লুণ্ঠনের রাজ্য কায়েম করতে চায়। আমরা আর এই ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চাই না। যেখানে মানুষ গুম হবে, ভয়ে থাকবে, আতঙ্কে ঘুমাতে পারবে না, মিথ্যা মামলার ভয়ে বাবা মায়ের জানাজায় আসতে পারবে না, এই অবস্থার অবসান চাই।

এসময় গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু ও সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু।

Exit mobile version