চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বিএনপি। প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার সকালে বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই বার্তা দেয় দলটি।
পোস্টে বলা হয়েছে, ‘চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: ডা. কামরুল ইসলামের পাশে যুবদল, দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস’
জানা গেছে, গত বছরের মধ্যভাগে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালের ওপর নজর পড়ে শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন মঈনের। তার নেতৃত্বে একটি চক্র প্রায় এক বছর ধরে চাপ ও ভয়-ভীতি দেখাচ্ছিল।
এ ঘটনায় মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির খবর প্রকাশিত হয়।
একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মরত একজনকে বারবার ধমক দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ভেতরে ঢুকে সৃষ্টি করেছেন আতঙ্ক।
হুমকি দেওয়া এই ব্যক্তিই মঈন উদ্দিন মঈন। তার চাঁদাবাজির চক্রের আরেক সদস্য হলেন মাঈনুদ্দিন। তার বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবারের সরবরাহ কেন্দ্র করেই মূলত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
অভিযোগ রয়েছে, যুবদলের সাবেক নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে দিয়ে টেন্ডার না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চক্রটি। এরপর থেকেই চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা অজুহাতে চাপ সৃষ্টি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়।
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, গত জুলাই-আগস্টের পর থেকেই বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি করছে চক্রটি। কখনো ভয়-ভীতি দেখানো, কখনো আবার রাজনৈতিক প্রভাব সামনে এনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি জিডিও করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে চাঁদা দাবির ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ হলে শুক্রবার (১২ এপ্রিল) গভীর রাতে রাজধানীর শ্যামলীতে ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে যান যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
তারা ঘটনায় জড়িত মো. মঈন উদ্দিন মঈনসহ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে বলেও জানান। এসময় ডা. কামরুল ইসলাম যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ধন্যবাদ জানান।


