আজ শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় এক সাধারণ দিনের মতোই মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরছিল ১৩ বছর বয়সী ইমরান হোসেন। ছোট্ট এই শিশুটি হাফেজ বিভাগের ছাত্র এবং স্থানীয় হযরত সুমাইয়া (রা.) মাদ্রাসায় কোরআন মুখস্ত করছিল।
কিন্তু ফেরার পথে ইমরান পড়ে যান ঝুট ব্যবসার দ্বন্দ্বে যুবদলের দুʼপক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে। ভয়ে একটি গলিতে ঢুকে গিয়েছিল ইমরান। তাতেও রক্ষা পাননি। একটি গুলি এসে লাগে তার পেটের বাম পাশে। যা প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ ঘটায়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের অদূরে হরিহরপাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে শিশু ইমরান ছাড়াও আরো দুʼজন গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা বলছেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। তবে এই সংঘর্ষের শিকার হতে হলো এক নিরীহ শিশুকে, যার এই দ্বন্দ্বের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই ছিল না।
শিশু ইমরানের পরিবার চাঁদনী হাউজিং এলাকাতে ভাড়াবাসায় থাকেন। তার বাবা আসমাউল হোসেন একজন পোশাক কারখানার শ্রমিক। গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়।
আসমাউল হোসেনের তিন সন্তানের মধ্যে মেজো ইমরান। বড় কন্যা ইশা মনি বলেন, সকালে মাদ্রাসায় গিয়েছিল তার ছোটভাই। তখন এলাকায় উত্তেজনা ছিল না। পড়া শেষে সাড়ে দশটার দিকে ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান ইমরান।
“আমার ভাই ভয়ে রাস্তার পাশে গলিতে ঢুকে পড়েছিল। পরে কী মনে করে গলির মুখে চলে আসলে গুলিটা লাগে তার পেটে। ভাই আমার সেখানেই লুটিয়ে পড়ে।”
শুরুতে তাকে পঞ্চবটির একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছোটেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পথে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়াতে চিকিৎসক অন্তত ৮ ব্যাগ রক্ত প্রস্তুত রাখতে পরামর্শ দেন বলেও জানান ভুক্তভোগী শিশুটির বড় বোন।
বিকেলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করতে সক্ষম হয়েছেন, কিন্তু এখনো তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে ইশা মনি জানিয়েছেন, “চিকিৎসকরা এখনও কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি।”
তিনি বলেন, পরিবারের স্বপ্ন ছিল ইমরান একদিন হাফেজ হয়ে ধর্মচর্চায় এগিয়ে যাবে। তবে এখন সেই স্বপ্ন থমকে গেছে হাসপাতালে, জীবনের সঙ্গে লড়তে থাকা এই শিশুর বিছানায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহরপাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকার ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেডের’ ঝুট নামাতেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা। এ নিয়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্বেচ্ছাসেবক দলের ফতুল্লা থানার সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদও এই সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্ত আছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, “কোন পক্ষ গুলি চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

Exit mobile version