ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিবের মালিকানাধীন ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন’ থেকে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রল উধাও হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারির অভিযোগে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংকট মোকাবিলায় উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত এই ফিলিং স্টেশনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরীক্ষা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনির।
গ্রেপ্তার রিফাত উপজেলার হিম্মতনগর গ্রামের উসমান গণির ছেলে। অন্যদিকে, ওই ফিলিং স্টেশনের মালিক আজিজুল হক গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযানসূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনটি ভৈরববাজার ডিপো থেকে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পেয়েছে। এরমধ্যে ১, ২ ও ৪ এপ্রিল সাড়ে ১৩ হাজার করে তিন দফায় ৪০ হাজার ৫০০ লিটার এবং ৬ ও ৭ এপ্রিল ৯ হাজার লিটার করে আরও ১৮ হাজার লিটার পেট্রোলের সরবরাহ করা হয়। তবে অভিযানের সময় ম্যানেজার জলিল হোসেন রিফাত দাবি করেন, চলতি মাসে তারা মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল বিতরণ করেছেন। বাকি বিপুল পরিমাণ পেট্রোলের কোনো সদুত্তর বা হিসাব দিতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নিশ্চিত হয় যে, প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে তেল মজুত বা কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত।
এই জালিয়াতির ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ফিলিং স্টেশনের মালিক আজিজুল হক সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাম্পের ম্যানেজার নতুন হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। তার দাবি, প্রাপ্ত সব তেলই নিয়মমাফিক বিক্রি করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
গৌরীপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই অবৈধ মজুত প্রক্রিয়ায় আর কারা জড়িত তা শনাক্তে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



