সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন না করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কে মানবাধিকার সংগঠন “অধিকার”-এর আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সংগঠনটির সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন এবং সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক ফিরোজ হোসেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আবু সাঈদ বিশ্বাস, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক আরাফাত হোসেন, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, সাংবাদিক শাহজাহান আলী মিটন, মানবাধিকার কর্মী হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, অতীতে দেশে গুম, খুনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ঘটলেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ মোট ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচিত সরকার সেই অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করে বাতিলের সুপারিশ করেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তারা আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সেই সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
তারা দাবি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এসব অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে সেগুলোকে আইনে পরিণত করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের রায় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান বক্তারা।


