আজ মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শহরতলী লাবসা মুন্সিপাড়া এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে একটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্বর্ণালংকার, রুপা, নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী লুট হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে অজ্ঞাতনামা চোর বা সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা শিশুদের নিয়ে স্কুল ও নিজ নিজ কাজে বাইরে অবস্থান করছিলেন। পরে বাচ্চাদের নিয়ে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে এসে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, ঘরের প্রধান দরজার তালা ভাঙা এবং ভেতরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।

ভুক্তভোগী এম এম শাহিন আলম পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের দেবহাটা উপজেলার সিনিয়র মাঠ কর্মকর্তা। তার বাড়ি লাবসা মুন্সিপাড়া গেট সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতনামা চোর বা সংঘবদ্ধ চক্র কৌশলে ঘরের দরজা বা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা আলমারি ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ফাঁকা বাসার সুযোগ নিয়েই এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীর তথ্যমতে, চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, ১০ ভরি রুপা, নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ২টি ল্যাপটপ, ৩টি স্মার্টফোন, প্রায় ১০টি শাড়ি এবং ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস। এতে মোট কয়েক লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধান সড়কের পাশে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং রাতে পাহারার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ভুক্তভোগী এখনও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার এবং স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Exit mobile version