আজ শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভোলার লালমোহনে লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধারে ডুবুরি নিয়ে আসা হয়।
ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মৎস্য রক্ষা অভিযানের একটি স্পিডবোট উল্টে গেছে। এতে মো. ফখরুল নামের এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ঘটনার ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁর সন্ধান মেলেনি।

গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মঙ্গল সিকদার লঞ্চঘাটে এই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় স্পিডবোটে থাকা অপর পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ফখরুল মঙ্গল সিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বরিশালে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটঘামী এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে মঙ্গল সিকদার লঞ্চঘাটে পৌঁছায়। একই সময় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা তদারকির জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের তিন সদস্য এবং তিনজন কনস্টেবল স্পিডবোটে অভিযানে যান।

ওই দলে লালমোহন মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং পুলিশের তিনজন কনস্টেবল ছিলেন। লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ানোর সময় লঞ্চের পেছনের পাখার ধাক্কায় স্পিডবোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর স্পিডবোটে থাকা মৎস্য অফিস ও পুলিশ সদস্য পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বেলা ১টার দিকে বলেন, অভিযানে যাওয়া স্পিডবোটটি নদীর মধ্যেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় স্রোতের টানে বোটটি ঘাটে ধাক্কা লঞ্চের সঙ্গে গিয়ে ধাক্কা লাগে এবং লঞ্চের নিচে বোটটি ঢুকে উল্টে যায়। ঘটনার পর কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে নেমে তল্লাশি চালিয়েছে। বরিশাল থেকে আরও ডুবুরি দল এসেও উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে।

অলিউল ইসলাম আরও বলেন, নিখোঁজ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধারে সকাল ৮টার দিকে শুরু করে সকাল ১০টা পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু তাঁকে সন্ধান মেলেনি। নদীতে তীব্র স্রোত এবং জোয়ারের পানির চাপ বেশি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না। তাই উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়েছে।

Exit mobile version