আজ সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক চৌক্কার খাল (গড়গড়িয়া খাল) বিলীন হওয়ার পথে। প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি লবলং খালের একটি শাখা। দোখলা বাজার থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি ছাপিলাপাড়া হয়ে ভাংনাহাটি গ্রামে কৃষিজমিতে মিলিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালের দিকে খালটি খননের সময় সেখানে সরাসরি উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে নিজ হাতে মাটি কেটেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। এই স্মৃতি আজও এলাকাবাসীর মাঝে অম্লান। তাঁদের দাবি, জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃখনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।

তৎকালীন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল হেলিম জানান, খাল খননের সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম মন্ডল ছিলেন। কর্মসূচি শুরুর আগে তাঁর মৃত্যু হলে আব্দুল হেলিম দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান সাহেব ছাপিলাপাড়া অংশে আসেন এবং শ্রমিকদের সঙ্গে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন, যা দেখে শ্রমিকরা বিস্মিত হন।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে সংসদ সদস্যের কাছে খাল পুনঃখননের দাবি জানানো হয়েছে।

আব্দুল হেলিম আরও অভিযোগ করেন, সেতুর উজানে প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি কারখানা নির্মাণের সময় খালের অংশ ভরাট করা হয়েছে। এছাড়া আশপাশের অন্তত ২০টি কারখানার বর্জ্য সরাসরি খালে পড়ায় পানি দূষিত হচ্ছে, যা কৃষিজমি ও ভূগর্ভস্থ পানির জন্য ক্ষতিকর। তলানি জমে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে আশপাশের বাড়িঘর প্লাবিত হচ্ছে।

তৎকালীন শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান শ্রীপুর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে এসে গাড়িযোগে খালে আসেন। আগে থেকে রাখা কোদাল দিয়ে তিনি নিজে মাটি কেটে শ্রমিকদের উৎসাহিত করেন।” তিনি অভিযোগ করেন, ভূমিদস্যুরা খাল দখল করে পাড় কেটে ফেলেছে এবং খননের পাশাপাশি কারখানাগুলোতে ইটিপি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মাসুদ ইবনে মোবারক ও শিক্ষক শামিম আহমেদ মনে করেন, জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও কৃষকের স্বার্থে খাল পুনঃখনন জরুরি। শামিম আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এই খাল এখন শিল্পবর্জ্যে নিঃশেষ হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, “শ্রীপুরের খালগুলো শিল্প ও নাগরিক বর্জ্যের আধারে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের মূল্য দিচ্ছে কৃষক ও সাধারণ মানুষ। জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে খালটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা দরকার।”

স্থানীয়দের মতে, চৌক্কার খাল শুধু একটি জলাধার নয়; এটি কৃষি, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ। যথাযথ পুনঃখনন, দখলমুক্তকরণ ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে খালটি সেচ, মাছচাষ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে আবারও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এ ব্যাপারে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “অবশ্যই আমি এই খালটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খননের জন্য যা যা দরকার সব করব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। মানুষের প্রত্যাশার পাশাপাশি এটা আমার নিজেরও দায়িত্ব, কারণ এখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।”

Exit mobile version