গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিধবা ও পঙ্গু নারী হোসনে আরা বেগম দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সরকারি কোনো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাননি। স্বামীর মৃত্যুর পর দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করা এই নারী এখন দুই সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
সরকারি সাহায্য শুধু আশ্বাসেই সীমিত
হোসনে আরা বেগম জানান, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) কার্ড—কোনো ধরনের সরকারি সহায়তার আওতায় তিনি কখনও আসেননি। তিনি বলেন, *”আমার দুই ছোট বাচ্চা রেখে স্বামী দুর্ঘটনায় মারা যায়। সরকারি সাহায্যের আশায় অনেক জায়গায় গিয়েছি। আমাকে শুধু স্বামীর মৃত্যু সনদ করতে বলা হয়েছে, কিন্তু আমি গরিব মানুষ, কাগজপত্রের কিছুই বুঝি না।”*
তিনি পারলি নদীর পাড়ে সরকারি জমিতে একটি অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করেন। নিজের কোনো জমি বা স্থায়ী বাসস্থান নেই। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি শারীরিক অবনতির কারণে শয্যাশায়ী রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চলাফেরার ক্ষমতা হারানো এই মায়ের সংকটময় অবস্থায় দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই।
স্থানীয় প্রতিনিধিদের ভূমিকা
এ নিয়ে আগে তৎকালীন স্থানীয় সদস্য (মেম্বার) রশিদের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা পাননি হোসনে আরা। তবে বর্তমান ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীরকে বিষয়টি জানালে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রাজাবাড়ী ইউনিয়নের অনেক প্রকৃত দুস্থ ও বিধবা নারী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রভাবশালীরা এসব সুবিধা ভোগ করছেন বলে তাদের দাবি।
রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ গোলাম মুরশেদ বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, *”আমরা খবর পেয়েছি। হোসনে আরা বেগমকে আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদে আসতে বলেছি। সরেজমিনে অবস্থা দেখে এবং তার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখব, কি কী সাহায্য আমরা দিতে পারি। ইউনিয়ন পর্যায়ে যা সম্ভব, তা করতে আমরা প্রস্তুত।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছে—হোসনে আরা বেগমকে যতদ্রুত সম্ভব বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, টিসিবি কার্ডসহ সকল প্রকার প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি তার সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
হোসনে আরা বেগমের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্তেই। তার আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হবে কিনা, তা এখন ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের তৎপরতার ওপর নির্ভর করছে।


