নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১১টায় ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এস কে শাহীনের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এস কে শাহীন।
তিনি জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কায়েমপুর স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী রবিন গ্রুপের সঙ্গে তার প্রতিপক্ষ মুন্নার গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সেখানে শত শত মানুষ ভিড় করলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে এস কে শাহীন ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত করে নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
তিনি আরও জানান, রাত ১১টার দিকে তিনি ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় বাইরে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান এবং খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন মাদক সম্রাট রবিনের নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের একাধিক মামলার আসামি আওয়ামী লীগের সোহেল ও মিঠু, রবিনের ভায়রা খান ও সমিতির কিস্তি ব্যবসায়ী ওয়াসিমসহ অন্তত ১৮ থেকে ২০ জনের সশস্ত্র বাহিনী এসে তার কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন। এ সময় এস কে শাহীনকে না পেয়ে তারা অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
সন্ত্রাসীরা ৬-৭টি শর্টগানসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে বলেও অভিযোগ করেন এস কে শাহীন। এ সময় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
এস কে শাহীন বলেন, ‘আমি একটু আগে এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্ট দেখা গেছে। সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ আমি এর ন্যায়বিচার চাই। আমার নিজের নিরাপত্তাও চাই। নয়তো সকালে আমি ডিসি অফিস ঘেরাও করব।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, ‘খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ হামলার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় আমরা ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছি। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান ও তদন্তসহ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’


