সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপো থেকে চালান ছাড়াই ১৫টি ড্রামে ৩ হাজার লিটার ডিজেল বাইরে বের করার ঘটনার দৈনিক জনদর্পণের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মেঘনা পেট্রোলিয়াম একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির রির্পোটের প্রেক্ষিতে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মিটারম্যান সবুজকে চাকরিচুত্য, ডিএস মাহবুবকে সর্তক করা হয় এবং লোকমানকে সাময়িক বহিস্কার করে। এছাড়া আগামী ৬মাসের জন্য রাব্বী ট্রেডার্স কে তেল উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ।
তবে ডিএস মাহাবুব নিজেকে নির্দোষ দাবী করে। উল্লেখ্য যে, ডিএস মাহাবুব রোড পরিবর্তন করে এখনো অবৈধ কার্যক্রম চালিযে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তিনি এখনো তার অবৈধ কাজের কাজের দোসরদের নিয়মিত মাসিক মাসোহরা দিয়ে তেল চুরির অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। জনদর্পণের অনুসন্ধানী রির্পোটে জানা যায়, এখন তেল চুরির রোড় বদল করেছে। বর্তমানে সড়ক পথ বাদ দিয়ে নৌপথে তার অবৈধ চোরই তেলে পাচার করে। মেঘনা পেট্রোলিয়াম এর সহকারি মিটারম্যান এবং ঠিকাদারের মিটারম্যান জড়িত বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়। উল্লেখ্য যে, তিনি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের স্থায়ী কর্মচারিদের মাসিক ২০,০০০ টাকা, ক্যাজুল মিটারম্যানদের ১০,০০০ টাকা ঠিকাদারের মিটার ম্যানদের ৮০০০ টাকা, সিকিউরিটিদের ৬০০০ টাকা, ঠিকাদারের সিকিউরিটিদের মাসিক ৫০০০ টাকা করে মাসোহরা প্রদান করে থাকেন। মূলত এখন এরাই তার অবৈধ কাজের সহযোগি হিসাবে কাজ করে।
গত ২৪ ডিসেম্বর মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এইচ আর, অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ফতুল্লা ডিপোর সহকারী ব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) কামরুল হাসানকে গোদনাইলে ডিপোতে বদলি করা হয়। একই কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত আরেকটি অফিস আদেশে ওই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কোম্পানির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলামকে (ডিপো অপারেশন্স) এ তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন ডেপুটি ম্যানেজার (অডিট) মো. গোলাম মহিউদ্দিন এবং ঢাকা রিজিওনাল অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার (সেলস) মো. আনোয়ার হোসেন। কমিটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর ৭ দিনের মধ্যে পেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদিকে গঠিত তদন্ত কমিটি গেলো ৩০ ডিসেম্বর ডিপোতে এসে তদন্ত করে। জনদর্পণের অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিএস মাহবুবের পরিবর্তে মিটারম্যান সবুজের কাঁধে দায় চাপানোর সুযোগ রেখে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন পেশ করবে বলে জানা যায়। যাকে বলে ‘উধোর পিন্ডি বুধোড় ঘাড়ে ‘ চাপানোর চেষ্টা। কারণ গেট থেকে কিভাবে গাড়ী চালান ব্যতীত বের হলো সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। ট্যাংকলরী মালিক শ্রমিকরা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর ডিএস মাহবুবের অপসারণ দাবি করে ডিপোর সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন ট্যাংকলরী চালক ও শ্রমিকরা। তারা দুর্নীতিবাজ ডিএস মাহবুবুর রহমানের অপসারণ দাবি করেন অন্যথায় ডিপো বন্ধ করে কর্মবিরতি পালনের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
জনদর্পণে অনুসন্ধানী রির্পোটে ্আরো জানা যায় অবৈধ তেল গোপনে ঢাকা-নারায়নগঞ্জের কয়েকটি পাম্পে গোপনে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাম্প গুলো হলো, সাজেদা প্লোর্টিং, শীতলক্ষা প্লোর্টিং এবং বুড়িগঙ্গা প্লোর্টিং পাম্প। অনুসন্ধানী রির্পোটে আরো জানা যায়, ডিএস মাহাবুব এখনো তার অবৈধ কার্যক্রম নিরিবিচ্ছিন্ন ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার জ্বালানি তেলবাহী পিকআপ আটকের পর সন্ধ্যায় ডিপোর কর্মকর্তা ডিএস মাহবুবের অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা অবিলম্বে এডিএস মাসুদের মতো ডিএস মাহবুবেরও গোদনাইল মেঘনা ডিপো হতে প্রত্যাহার দাবি করেন। জনগনের দাবী, তেল চুরি রোধ করতে হলে অবিলম্বে ডিএস মাহবুবকে সরিয়ে দিতে হবে। দৈনিক জনদর্পণ-এর অনুসন্ধানী রির্পোটার ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে; যা সত্যিভাবে প্রমাণিত হয়। মাহবুবের সেল নাম্বারে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।



