টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে মিয়ানমার বাহিনীর গুলিতে টিকে থাকতে না পেরে প্রাণে বাঁচতে ৫০ জন মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সদস্য বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদেরকে আটক করেছে বিজিবি। রবিবার (১১ জানুয়ারি) ভোরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের সময় ৫০ জন মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য এবং দুইজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। সন্ত্রাসী সদস্যদের মধ্যে আরাকান স্যালভেশন আর্মি-৩, আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি-২৯, রোহিঙ্গা ইসলামি মাহাসের ১৮ জন সদস্য রয়েছে। তাদেরকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ শিশু
মিয়ানমারের ওপারের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ শিশুর নাম আফনান (১২)। স্থানীয়ভাবে সে ‘পুতুনি’ নামে পরিচিত। সে লম্বাবিল এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। ঘটনার খবরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
কক্সবাজার–টেকনাফ প্রধান সড়কের লম্বাবিল ও তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে কিছুসময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ শিশুটি মারা যায়নি। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাতভর গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মিয়ানমার দিক থেকে আসা গুলিতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
এদিকে সীমান্তের ওপারে গোলাবর্ষণের শব্দে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক সীমান্তবাসী ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে। সেখানে আরাকান আর্মির সঙ্গে আরসা, আরএসও, আরআইএম এবং নবী হোসেন গ্রুপের মধ্যে চলমান গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। এতে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


