সোনারগাঁ(প্রতিনিধি): নারায়ণগঞ্জের সরকারী কলেজের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে প্রচারণা করার প্রতিবাদ করায় কলেজ ছাত্র শিবিরের সভাপতিসহ শিবির নেতাদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়। এঘটনায় বিকেল ৪টায় কলেজ প্রাঙ্গনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. হৃদয় লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ তোলেন। এছাড়াও শিবির সভাপতিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তাদের নিরাপত্তার জন্য দুপুরে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজ ও সোনারগাঁ সরকারী কলেজ ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছামাদ চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে সোনারগাঁ সরকারী কলেজ ছাত্র শিবিরের সভাপতি হৃদয় জানান,কলেজ ক্যাম্পাসে গতকাল শনিবার সকালে কলেজ কর্তৃপক্ষ একাদশ শ্রেণীর নবীন বরণের আয়োজন করে।ওই নবীন বরণ অনুষ্ঠানে সোনারগাঁ কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে ফটোকার্ড সাটিয়ে প্রচারণা ও ভোট চাওয়া হয়। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়ে কোন সাড়া পায়নি ছাত্র শিবির। এঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব ও ভুবনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হৃদয় মিয়াসহ ৩ নেতাকর্মীকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। এঘটনার বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তাকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতার রয়েছেন বলে দাবি করা হয়। সোনারগাঁ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম বলেন,ফটোকার্ড বসানোর বিষয়টি জেনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে যা ঘটেছে এসিল্যান্ড মিমাংসা করে দিয়েছেন। তবে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগও দেয়নি। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্র শিবির অভিযোগ দেওয়ার পর সাটানো ফটোকার্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হুমকি ও অবরুদ্ধের বিষয়টি সত্য না। এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকলে সিসি ক্যামেরায় থাকবে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো.মহিবুল্লাহ বলেন,অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটাণিং কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিষ্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি মিমাংসা দিয়েছেন।


