
মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা শহরের দারুল কোরআন মডেল একাডেমি মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ মেহেদীকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই বিষয়টি ছড়ানোর কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে ।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি একটি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা কেন্দ্র। তারা বলেন, “আমরা চাই, শিক্ষাঙ্গনে যারা দায়িত্বে থাকবেন, তারা শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শের দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।”
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মেহেদী দৈনিক জনদর্পণ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধির মাধ্যমে বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। সম্প্রতি আমার ও মাদ্রাসার মুহতামিমের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যা বিকৃতভাবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে কুরআনের খেদমতে নিয়োজিত। আমার চরিত্র ও আচরণ সম্পর্কে যারা জানেন, তারা সত্য জানেন। কেউ যেন এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৩০/০৯/২০২৫ তারিখের খসড়া অঙ্গীকারনামার লেখাগুলো তার হাতের লেখা নয়। “আমি যেসব কাজ করিনি, সেগুলো আমার দিয়ে লিখিয়ে নিতে চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি ভয়ে বাসায় চলে আসি। এরপর অন্য কেউ আমার নামে অঙ্গীকারনামাটি সম্পূর্ণ করে।”
এদিকে ঘটনার সময় জান্নাতুল ফেরদাউস (বিউটি) জানান, মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইউনুস তার নাম্বার নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাতের বিভিন্ন সময় কল দিয়ে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেন। বিউটি অতিষ্ঠ হয়ে মাওলানা ইউনুসের নাম্বার ব্ল্যাকলিস্টে ফেলে। দুইদিন পরে মাওলানা ইউনুস’র সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার কারণে ব্যক্তি রাগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি পোস্ট করা হয়েছে। বিউটি আরো বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে তা ভিত্তিহীন। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হোক। এটি আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।”
এদিকে এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জনদর্পণ পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মাওলানা ইউনুস এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি রাতে ফোন করেছিলেন এবং কুপ্রস্তাব প্রদান করেছিলেন।”
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মেহেদী ও জান্নাতুল ফেরদাউস (বিউটি) এর বক্তব্য অনুযায়ী, জিডি করার জন্য থানায় সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।”

