
আহসানুল হাবিব সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সড়ক অবরোধ করা পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সোয়া চারটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান, এপিসি এবং শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনার পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ দিন বিকেল তিনটা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। সকাল থেকেই ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী, আদমজী ইপিজেড এবং কাঠেরপুল-শিবু মার্কেট অঞ্চলের শ্রমিকরা যথারীতি কর্মস্থলে প্রবেশ করেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবির পাঁচ প্লাটুন সদস্য সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
এছাড়া দুপুরের দিকে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
দুপুর আড়াইটার পর ফতুল্লার কাঠেরপুল-শিবু মার্কেট অঞ্চলের শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের চেষ্টা করেন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও চেম্বারের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ সেই আহ্বানে কর্ণপাত না করে বিকেল তিনটার দিকে লিংক রোডের শিবু মার্কেট, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও জালকুড়ি এলাকায় অবস্থান নেন এবং যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেন।
বিকেল সোয়া চারটার দিকে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে, যখন আন্দোলনরত শ্রমিকরা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শ্রমিকদের নিক্ষিপ্ত ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জ ও ধাওয়ায় ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক আহত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ১০ থেকে ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেন।

পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, জলকামান ও এপিসি ব্যবহার করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ছোড়া হয়।
এদিকে, শিল্প পুলিশ নারায়ণগঞ্জ-৪-এর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ৪-৫ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ ও ছবি পর্যালোচনা করে উসকানিদাতাদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে শ্রমিকদের সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

