
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ পর্যটকের পোড়া মরদেহ ১০ দিন পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে পাঁচ পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় স্বজনদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট আড়াই লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার খিলগাঁও-মুগদা এলাকার আমিনুল ইসলাম খান তাঁর স্বজনদের ছয়জনের মরদেহ গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবীর (৩৫) ও তাঁদের ছেলে ফাইজান (৫)। এ ছাড়া রয়েছেন ফারিয়ার ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী জেরিফ (২৪)।
নিহত অন্য তিনজন হলেন খিলগাঁও-মুগদা এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিমের তিন মেয়ে এবং ফারিয়ার তিন খালাতো বোন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (১৯)।
এদিকে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা আক্তার (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোবাইনা আক্তার (৯) ও সুনাইনা আক্তারের (৬) মরদেহ গ্রহণ করেছেন স্বজনরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ বলেন, মরদেহগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের স্বজন আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের ছয়জনের এবং যশোরের চারজনের মরদেহ বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। আমরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।’
তিনি বলেন, ১০ দিন পর স্বজনদের মরদেহ পেয়েছেন তাঁরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তাঁরা। যাঁদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পাঁচ পরিবারের ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট আড়াই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে পাটুয়ারটেক সৈকতের কাছে অবস্থিত তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ওই দিন রিসোর্টটি থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

