
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ক্যাম্পাসে অস্থিরতা, সারা দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো উল্লেখ করে বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই বলেছিলেন, ‘মব কালচার’ শেষ। অথচ বাস্তবতা হলো, বিএনপির দলীয় ক্যাডাররাই এখন সারাদেশে মবতন্ত্র কায়েম করেছে।’
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাবি ও রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর এবার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে মব করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করানো হয়েছে জানিয়ে সাদিক কায়েম লিখেন, আজ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় এই ঘটনায় জড়িতদের ছবিসহ নাম এসেছে। জিয়া মঞ্চের মহানগর সভাপতি কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে সরাসরি পদত্যাগপত্রে জোর করে সই নিতে দেখা যায়। প্রকাশ্য দিবালোকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে এভাবে ৪০-৫০ জন সরকারি দলের ক্যাডার মিলে জোর করে পদত্যাগ করানো নজিরবিহীন একটি ঘটনা।’
‘সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই ঘটনার কারণ হলো ঠিকাদারি কাজ ও টেন্ডারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ক্যাডারদের অসন্তোষ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কি দলীয় ক্যাডারদের অনুমতি নিয়ে নিতে হবে? এই ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা আমাদেরকে হতবাক করেছে। তার মানে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প সরকারি দলের নেতাকর্মীদের ভোগদখলে যাবে, এটাই নিয়ম হিসেবে মেনে নেওয়া হচ্ছে? ভিসির পদত্যাগ যদি রাজনৈতিক চাপ, ঘেরাও আর ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা যায়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো আর কতটুকু স্বাধীন থাকে?’
বিএনপির দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের এই ধরনের মববাজি কোনো সভ্য সমাজের আচরণ হতে পারে না মন্তব্য করে সাদিক কায়েম আরও লিখেন, ‘গত সপ্তাহেই রাড্ডা ক্লিনিকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ইন্ধনে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হলো। প্রতিটি দখল, লুটপাট, হামলা ও মব সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত। পাশাপাশি এইসব ঘটনায় পুলিশ ও বিচার বিভাগ নির্লিপ্ত থেকে সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সতেরো বছর ধরে ক্ষুধার্ত বিএনপি এখন পারলে যেন পুরো বাংলাদেশকেই গিলে ফেলে!’

