
মোঃ হাফিজুল ইসলাম , সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন মিললেও এখনো পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় দ্রুত ক্লাস চালুর দাবি উঠেছে। উপাচার্য নিয়োগ, প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর দাবিতে সরব হয়েছেন জেলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন পরিষদ, সুন্দরবন বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরা জেলা বাস্তবায়ন কমিটি, ‘সময়ের দাবিতে সাতক্ষীরা সিটি কর্পোরেশন’ এবং সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা জেলা বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি অঞ্চলের শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। সাতক্ষীরায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তব কার্যক্রম শুরু করাই প্রধান প্রত্যাশা।
সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি এস এম মহিদার রহমানের সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হাবিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে হবে। এজন্য উপাচার্য নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরে আসছে। জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিও উঠে আসে। বক্তারা সাতক্ষীরায় সুন্দরবন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রেল যোগাযোগ বাস্তবায়ন এবং সাতক্ষীরাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরায় রেল যোগাযোগ চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, পর্যটন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একইভাবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত হলে সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঝাউডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আকবর আলী, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এ বি এম সেলিম, সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর আবু বকর, কুমিরা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ পাড়, বিশিষ্ট সমাজসেবক শেখ মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর হাশেমী, প্রভাষক এস এম রজব আলী ও আব্দুস সামাদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা আবুল হোসেন।
এ সময় মোঃ ফিরোজ হোসেন, মোঃ শাহজাহান আলী মিটন, শেখ কামরুল ইসলাম, জি এম সোহরাব হোসেন, এস এম রবিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ জাকিরুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ বাহার, এম এম রবিউল ইসলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ মাসুদুজ্জামান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মিহিরুজ্জামান, হাফিজুর রহমান, আতিয়ার রহমান, গোলাম মোস্তফা, এনামুল হক সিকদার, আসাদুজ্জামান খান, মোঃ মনিরুল ইসলাম, লাল্টু হোসেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, আতিকুজ্জামান ও মোঃ হাফিজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভা থেকে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালুসহ জেলার দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দাবিগুলো বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে আরও ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।

