
শনিবার (২৯ আগস্ট) চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের শীর্ষ নেতাদের বরাবর এ পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়। এ অবস্থায় যুবদলের কর্মী-সমর্থকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ২৩ আগস্ট কুশাখালী ইউনিয়নে সবশেষ রফিক উল্যাকে আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব করে যুবদলের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আবদুর রশিদসহ ১২ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত করা হয়। চন্দ্রগঞ্জ থানা কমিটির আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা, যুগ্ম আহ্বায়ক এম আবদুল খালেক ও সদস্য সচিব আবদুল মুকিত সোহেল এ কমিটি অনুমোদন দেয়।
নতুন কমিটিতেও টাকার বিনিময়, আওয়ামী লীগের কর্মীসহ বিতর্কিতদের রাখার অভিযোগ আনা হয়। এতে যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রশিদ, মো. জাহাঙ্গীর, এমরান হোসেন, রাজু হোসেন, খুরশিদ আলম, দিদারুল আলম, আজিম উদ্দিন বাবলুসহ ১৮ নেতা পদত্যাগ করেন।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, প্রথমবার ২৬ জুলাই কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তখন আবদুর রশিদকে আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিবকে করা হয়। এতে ওই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও হারুনুর রশিদসহ ১৬ নেতা পদত্যাগ করেন। টাকার বিনিময়ে প্রবাসীদের দিয়ে কমিটি দেওয়া ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় তারা পদত্যাগ করেন। কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবই বিদেশ থেকে এসে কমিটি নিয়েছেন বলে দাবি তোলা হয়। এসব বিতর্কের কারণে ২৮ জুলাই কেন্দ্র থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
তখন পদত্যাগ করা যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক উল্যা বলেছিলেন, তাকে আহ্বায়ক করার কথা বলে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের নেতারা। এজন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন। যদিও এখন নতুন কমিটিতে তাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
যুবদলকর্মী ফারুক হোসেন ও ইমন জানান, আমাদের ইউনিয়নে যুবদল নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যে বেশি টাকা দিতে পারে তাকেই পদ দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণা, পদত্যাগ, বিলুপ্তের পর আবার নাটকীয়ভাবে নতুন কমিটি হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বিভ্রান্তিতে আছি।
চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা বলেন, নতুন কমিটির যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের নিয়ে আমরা বসব। মূলত সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কমিটি করার অভিযোগ সত্য নয়।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিঙ্কন বলেন, রাগ-ক্ষোভে কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারেন, ১৮ জনের পদত্যাগ সত্য নয়। যাদেরকে দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে তারা দলের পরিক্ষিত।

