
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে (নাসিক) অন্তর্ভুক্তির দাবিতে দ্বিতীয় গণশুনানিতে অংশ নিয়েছেন ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশীপুর ও গোগনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ নিজ এলাকার বাস্তব অবস্থা, শ্রেণি (ক্যাটাগরি) এবং সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশীপুর ও গোগনগর ইউনিয়নের আংশিক নয়, পুরো ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে এসব এলাকার বর্তমান অবস্থা ও শ্রেণি বিবেচনায় নিয়ে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন তারা।
গণশুনানিতে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, জনগণের মতামত ও আইনের দৃষ্টিভঙ্গি সমন্বয় করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “যোগ্যতা অনুযায়ী যতটুকু সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত, সেটি আপনাদের মতামত থেকে পেয়েছি। এরপর আমরা একদিন সরেজমিনে দেখে সিদ্ধান্ত নেব।”
জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা এমন একটি প্রতিবেদন পাঠাতে চাই, যেটি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে। এমন কিছু করতে চাই না, যেটি হওয়ার উপযুক্ত সেটি বাদ দিয়ে দিয়েছি এবং যেটি হওয়ার উপযুক্ত নয় সেটি দিয়ে ফেলেছি। যেটি বাস্তবসম্মত এবং বাস্তবভিত্তিক ব্যবহার অনুযায়ী, সেটুকুই আমরা করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে যেন আমলে নিতে পারি, সেই চেষ্টা করছি।”
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। জনগণের প্রত্যাশা ও এলাকার বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব হলো জনগণের দাবি, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়সংগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে সমাধান করা।”
গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক নিলুফা ইয়াসমিন, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি মো. শহিদুল্লাহসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

