
রিমান্ডে নিয়ে ৭৬টি চেকে সই করিয়ে বিভিন্ন মামলা দেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় ডিবির সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হকসহ চারজনকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। অপর আসামিরা হলেন- ধানমন্ডি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব ও মোকাররম হোসেন জিমি।
এদিন মামলার বাদী মজুমদার আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেন আদালত। এসময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আফজাল হোসেন মৃধা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আগামী ১৯ আগস্ট আসামিদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়।
২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ভিকটিমের ভাই মজুমদার আরিফুর রহমান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ গত ২১ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং এলসির মাধ্যমে আতিকুর রহমান তার এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও এএসআর সোয়েটার লিমিটডের আধুনিকায়ন করার জন্য মালিকানাধীন রার্নি টাইগার্স (বিডি) লিমিটেডের মাধ্যমে চায়না হতে মেশিনারিজ আমদানি করেন। পরবর্তী সময়ে আতিকুর রহমান আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। আসামি একাধিকবার আতিকুর রহমানের কারখানার মেশিনারিজ পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে বন্ধ করে দেন। এরপর আতিকুর রহমান তার সঙ্গে সমঝোতা করে কিছু টাকা পরিশোধ করে পুনরায় সোয়েটার কারখানাটি সচল করেন। তবে আতিকুর রহমান সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং আদালতে ক্ষতিপূরণের জন্য সাইদুর রহমান হাবিবের নামে দেওয়ানি মোকাদ্দমা দায়ের করেন। এ কারণে সাইদুর রহমান হাবিব বাদী হয়ে আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা তদন্ত করে। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তভার ডিবি ডিএমপির ওপর ন্যাস্ত করা হয়। ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১৪ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশি রিমান্ডে থাকাকালে ১৫ জানুয়ারি রাতে মামলা নিষ্পত্তির প্রলোভন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকে তার মালিকানাধীন এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়োটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে থাকা অ্যাকাউন্টের ৭৬টি চেকে বাহক হিসেবে সাইদুর রহমান হাবিবের নাম-উল্লেখ করে আতিকুর রহমানকে দিয়ে স্বাক্ষর করে নেন। আসামি সাইদুর রহমান হাবিব ১৬ জানুয়ারি আতিকুর রহমানকে নিজ জিম্মায় আদালত থেকে জামিন করে নিয়ে আসেন। পরে আতিকুর রহমানকে ৭৬টি চেক থেকে চারটি চেক ফেরত দিয়ে আসামি সাইদুর রহমান হাবিব আরও চারটি চেক গ্রহণ করেন। আসামি সাইদুর রহমান হাবিব ও মোকাররম হোসেন জিমির কথামত জামিন হওয়ার শর্ত হিসেবে আতিকুর রহমানের জামিনের আবেদনে বাদী-বিবাদীর আপস মীমাংসার কথা উল্লেখ করা হয়। মামলাটি তদন্তকালে মো. নাজমুল হক, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমির বিরুদ্ধে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

