
সাতক্ষীরা জেলা শহরের যানজট নিরসনকল্পে গঠিত উপ-কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যানজটের তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং শহরের বাইরে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় শহরের যানজটের কারণ, বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা নিরসনে করণীয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। প্রশাসন, পুলিশ, পৌরসভা, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা এতে অংশ নেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অবৈধ ভ্যান ও ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করা হবে। বড় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেখানে-সেখানে যানবাহন পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা হবে। চলমান সড়ক সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার জন্যও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেক পরিবহন তা মানছে না। নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং দীর্ঘ সময় বাস রেখে দেওয়ার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে সাতক্ষীরা শহরের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, কিছু সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলেও বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, সড়ক সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গোলচত্বর উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিসের বড় যানবাহনের শহরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, রুট পারমিটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান, শহরের প্রবেশপথে চেকপোস্ট আরও কার্যকর করা এবং অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও অনুসরণ করা হবে।
রিপন বিশ্বাস বলেন, যানজট নিরসনে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রশাসন, পুলিশ, পৌরসভা, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব। তাই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আমিনুর রহমান, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিআরটিএ সাতক্ষীরা অফিসের মোটরযান পরিদর্শক মো. ওমর ফারুক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফ, জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল ও শহর জামায়াতের সেক্রেটারী খোরশেদ আলম,সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন, সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাধুসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও উপ-কমিটির সদস্যরা।

