
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় একটি সেতু ধসে পড়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার লেমশীখালী ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের সংযোগস্থলে কেয়াকাটা খালের ওপর নির্মিত ৪৩ মিটার দীর্ঘ সেতুটি হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে দুই ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা জানান, রোববার সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে খালের পানির প্রবল স্রোত এবং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে সেতুটির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। এতে লেমশীখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাজিরপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, সাবের আহমেদ ও মো. রাহাত জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবশেষে টানা বৃষ্টিতে সেতুটি ধসে পড়ে।
লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, সংস্কারের অভাবে সেতুটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভারী বর্ষণে শেষ পর্যন্ত সেতুটি ধসে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকল্প সড়ক না থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবুছদ্দিন জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০০২ সালের দিকে কেয়াকাটা খালের ওপর ৪৩ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেতুটি দুই বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। নতুন সেতু নির্মাণে প্রায় তিন কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সেতুটি আগে থেকেই জরাজীর্ণ ছিল। সোমবার সকালের অতিবৃষ্টিতে এটি ধসে পড়ে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

