
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলা কারাগারে রয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) জেলা কৃষক দলের সভাপতি রুবাইয়াত হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম হিরার নির্দেশে দপ্তর সম্পাদক মো. চঞ্চল হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। রায়হান মাগুরা শহরের ভায়না গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ভুক্তভোগী ওই নারী সন্তান নিয়ে মাগুরা শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রিফাতুল ইসলাম রায়হানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রায়হান ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়টি সামনে এলে তিনি নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যেতে থাকেন। সর্বশেষ গত ২৫ মে বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বাসা থেকে চলে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মামলার ভিত্তিতে রোববার রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাগুরা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
তবে রিফাতুল ইসলাম রায়হানের পরিবারের সদস্যরা মামলাটিকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তারা মামলার বাদীর অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

