
সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর এলাকার ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুল মাঠে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরুর হাটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে একটি মাত্র গরু দিয়ে হাটের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
হাট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্বোধনের আগে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। স্থানীয় বাজার এলাকা ছাড়াও আশপাশের এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হয়। তবে প্রচারণা সত্ত্বেও প্রথম দিনে প্রত্যাশিত সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি দেখা যায়নি।
শুরুর দিনে হাটে মাত্র একজন বিক্রেতা তার গরু নিয়ে আসেন। এতে হাটে প্রাথমিকভাবে বেচাকেনার পরিবেশ তৈরি হলেও সার্বিক চিত্র ছিল নীরবতা ও হতাশার। অনেক ক্রেতা গরু না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান বলে জানা গেছে।
ধুলিহর বেড়বাড়ি এলাকার নূর ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দামের আশা করছেন, তবে ক্রেতারা গড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলছেন।
বাজার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পরও প্রথম দিনের এমন চিত্র প্রত্যাশা করেননি। তবে তাদের আশা, ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হাটে গরুর সরবরাহ ও ক্রেতার উপস্থিতি বাড়বে এবং বাজারটি ধীরে ধীরে জমে উঠবে।
হাটে আসা ক্রেতারা জানান, প্রথম দিনে গরুর সংখ্যা খুবই কম থাকায় তারা পছন্দমতো পশু দেখতে পাননি। অনেকেই বলেন, “গরু না থাকায় ঘুরে ফিরে চলে যেতে হয়েছে, পরের দিনগুলোতে গরু বাড়লে আবার আসবো।”
স্থানীয়রা জানান, আগে কখনো এমন পরিবেশ দেখা যায়নি যেখানে হাটের প্রথম দিনেই দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিস্থিতি তৈরি হতো। কিন্তু এবার প্রথম দিনের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন; হাটে গরুর উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত এবং ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিও ছিল প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে।
হাট কর্তৃপক্ষ জানায়, হাটটি প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ক্রেতা-বিক্রেতারা হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ পাবেন।
এদিকে বাজারকে আরও সচল ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগমন বাড়াতে বিকেল থেকে এলাকায় আবারও মাইকিং করা হচ্ছে। আশপাশের গ্রাম ও ইউনিয়নে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে, যাতে আগামী দিনে হাটে গরুর উপস্থিতি ও বেচাকেনা বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয়দের মতে, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে হাটটি ধীরে ধীরে জমে উঠবে এবং বেচাকেনা স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে।

