
নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য নবীন বরণ অনুষ্ঠান। শুক্রবার (৮ মে) সকালে কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের। প্রধান বক্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ভিপি মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, নবীন বরণ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন জান্নাতুল নাঈম এবং গীতা পাঠ করেন সজীব দাস। পরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা ও দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তি কলেজ শাখার আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন আকাশ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও রাইসা ইসলাম, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ সগীরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পান।
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তিনজন বক্তা বক্তব্য দেওয়ায় অনুষ্ঠানে কিছুটা বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বক্তারা বলেন, কয়েক বছর আগেও কলেজ ক্যাম্পাসে এমন উন্মুক্ত পরিবেশ ছিল না। অনেককে ক্যাম্পাসে প্রবেশ পর্যন্ত করতে দেয়া হতো না। এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে এবং সেটি ধরে রাখতে হবে।
তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও একক আধিপত্য যেন স্থান না পায় সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত সরকারি তোলারাম কলেজের চার শিক্ষার্থীকে স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, নিয়মিত নবীন বরণ, শিক্ষা সফর এবং শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, “এখানে উন্মুক্ত ক্যাম্পাস, সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়মতান্ত্রিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।”
কয়েকজন বক্তা অভিযোগ করে বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও দখলে রেখেছিল। ভবিষ্যতে যাতে কোনো দল একক আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সেদিকে কলেজ প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, “বিরোধিতা থাকতেই পারে, তবে তা হতে হবে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক। ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব দুপুর ১২টায় শেষ হয়। পরে দ্বিতীয় পর্বে অতিথিদের আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম।

