
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : মাপে তেল কম দেয়া, ট্যাংকলরী শ্রমিকদের সাথে অসদাচরণ ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ উঠেছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ফতুল্লা শাখার ডিপোর ডিএস মোঃ জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তার অপসারণের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছে সাধারণ ট্যাংকলরী শ্রমিকরা।
১০ মার্চ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত ট্যাংকলরী লোড করা বন্ধ রাখে শ্রমিকরা। এসময় তাদের সাথে ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন মেঘনা ইউনিট শাখার নেতৃবৃন্দরাও যোগ দেয়। পরে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল সাড়ে ৮ টা থেকেই ডিপোর গেটে অবস্থান নিয়ে ডিপো সুপারের অপসারণ দাবি করে। শ্রমিকরা এসময় সাংবাদিকদের বলেন, ডিপো সুপার জালালউদ্দিন মাপে তেল কম দেয়, এতে আমরা পেট্রোল পাম্পে তেল বুঝিয়ে দিতে পারি না। এখানে বিপিসি কর্তৃক তেল বন্টনের জন্য যে লিস্ট আসে জালাল সাহেব তা বাদ দিয়ে নিজের তৈরী লিস্ট বানিয়ে পাম্পদের তেল দেয়, যেনো বাকি তেল সে বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করতে পারে।
এছাড়াও ডিপো পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়মকানুন প্রয়োগে স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ আনেন শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন ফতুল্লা মেঘনা ডিপো শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মো: বাচ্চু শেখ বলেন, ‘আমরা হেড অফিসের নিয়ম অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান। আমাদের বন্ধ করার কোনো দরকার নেই। আমরা এই জালালরে ২ ঘন্টার ভেতর বদলি করতে পারি। যদি এখানের তেল না নেয় শ্রমিক ওর বাপেরও শক্তি নেই ডিপো চালানোর। ঢাকায় একটা চিঠি লিখবো জালাল সাহেবের অপসারণ চাই না হয় আমরা তেল নিবো না। ২৪ ঘন্টার মধ্যে বদলি হইয়া যাইবো।’
বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাজী আব্দুল মতিন মুন্সী বলেন,’ উনি আমাদের ডিপো ইনচার্জ। ওনার কাছে শ্রমিক নেতারা যাবে, শ্রমিকরা যাবে, ড্রাইভার যাবে, হেলপার যাবে। ওনাদের সাথে উনি ভালো একটা ব্যবহার করবেন। কিন্তু উনি ব্যবহার এত জঘন্য ভাষায় করেন যা বলা সম্ভব না। এটা মেনে নেয়া যায় না। তাই আমি মনেকরি ওনার এখানে থাকারই কোনো অধিকার নেই।’
জানা যায়, জালালউদ্দিন এর আগেও দুইবার এই ডিপোতে দায়িত্ব পালন করেছেন, ঐ সময়ও তার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিলো।

