
তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানার হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেছিল তার সহকর্মীরা। পরে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস শিক্ষক ও পুলিশ দিলে শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে চলে যায়। শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে দেওয়ায় ফার্মগেট এলাকায় আবারও যান চলাচল শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, শিক্ষার্থীরা যে দাবীতে রাস্তায় নেমেছিলেন তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। ঘটনস্থলে আজ কলেজের অধ্যক্ষ নিজে এসেছিলেন। কলেজের অধ্যক্ষ ও পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেওয়া হয় রানা হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আশ্বাস দেয় যে তাদের ক্যাম্পাসের ভিতরে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সমাধান করা হবে। এসব আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ ছেড়ে চলে যায়।
শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ফার্মগেট এলাকায় আবারও যান চলাচল চলছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে রাস্তায় নেমে সহপাঠী হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকশ শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা রানা হত্যার বিচার চেয়ে এবং বিচারের দাবিতে ব্যানার নিয়ে ফার্মগেট এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেছে। এই সময় শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দিচ্ছেন তাদের ক্যাম্পাসের ভিতরে কেন হামলা করা হলো এবং তাদের সহপাঠীকে কেন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তারা স্লোগান দিয়ে বলছেন, এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় না নিয়ে আসলে তারা তাদের আন্দোলন স্থগিত করবেন না। তারাই হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থানে থেকে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় রানার মৃত্যু হয়। রানা ৫ দিন ধরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান,ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুইটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সেবন, বহিরাগত ছাত্র হলে রাখা এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে হলের তলায় বসে মাদক সেবন করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদেরকে বাধা দেয়। এরপর বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। ছাতদলের গ্রুপ বহিরাগত শতাধিক লোক নিয়ে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে বেধড়ক পিটিয়ে তিনজনকে আহত করে। এর মধ্যে গুরুতর আহত হন তেজগাঁও কলেজের উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের (২০২৪–২৫) সেশনের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা।

