
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার রামপুর বাজার দীর্ঘদিন ধরে মাদকের গোপন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। থানা সূত্রে জানা যায়, রামপুর বাজারের স’ মিলের আড়ালে বহু বছর ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে এসেছে একটি প্রভাবশালী পরিবার। এই পরিবারের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন আব্দুল মান্নান, যার বিরুদ্ধে গত এক দশকে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মান্নানের বিরুদ্ধে ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৩টি মাদক, একটি মৎস্য আইন এবং একটি ডাকাতির মামলা রয়েছে।
সর্বশেষ ১৫ জুলাই রামপুর এলাকায় মাদক কেনা–বেচার সময় পুলিশ আব্দুল মান্নান ও তার ছেলে শ্যামল আবরারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। মান্নানের স’ মিলের অফিস থেকে জব্দ করা হয় ৬০ পিস ইয়াবা, দুই কেজি গাঁজা ও ৭০ হাজার টাকা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের সামনে এসআই সুদিপ্ত শাহিন এবং এএসআই রাসেল জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, জামিনে বের হওয়ার পরপরই মান্নান পরিবার দুই পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগকে সামনে এনে একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনে বলায় হয় যে, এসআই সুদিপ্ত শাহিন ও এএসআই রাসেল মান্নানের দোকান থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল নিয়ে গেছেন এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।
তবে ওই প্রতিবেদনে কোনো দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বা যে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। যাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ অভিযোগ তোলা হয় তারা মান্নানের ছেলে, মেয়ে ও দোকানের কর্মচারী অর্থাৎ যাদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান।
কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী, বাজার কমিটি বা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মন্তব্যও নেওয়া হয়নি। ফলে সংবাদটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় অনেকেই বলছেন, একজন বহু মামলার মাদক আসামি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে পারেন। তবে তার জন্য থানা আছে বা আদালত আছে। এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে থানায় জিডি, লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা যেত।
কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এভাবে কোনো নামসর্বস্ব ইউটিউব চ্যানেলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ যেনতেন ভাবে প্রচার করে দিলে পুলিশ সদস্যরা মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে সাহস হারাবেন। অপরাধীরা নিজেদের রক্ষা করতে পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলা নতুন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে এসআই সুদিপ্ত শাহিন বলেন, মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কাজ করি বলেই রামপুর বাজারের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট সংবাদ প্রচার করছে। আমি কোনো চাঁদাবাজি বা মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকি, এমন একটি প্রমাণও দেখাতে পারবে না। থানায় যোগদানের পর থেকেই আমি তাদের মাদক ব্যবসার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি, তাই তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে জানতে আব্দুল মান্নানের সাথে একাধিক বার ফোন করা হলেও তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীর এসব অভিযোগ ইউটিউবে প্রতিবেদন আকারে প্রচার নিয়ে রামপুর বাজারের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, যদি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। যদি থাকে তবে আব্দুল মান্নান আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে প্রচার করছেন। এতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়।

