
শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের পোশাক শিল্পকে কয়েক মাস ‘সংকটময়’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে বলে মনে করছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী নেতা।
শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ভবনে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমন শঙ্কার কথা উঠে আসে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি—বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট রফিক চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক দেশের পোশাক কারখানা মালিকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন কারখানা সময়মত শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না। ৭ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার একটা সময়সীমা থাকে। কিন্তু অনেক কারখানা এটা মেনে চলতে পারছে না। বেতন দিতে এক-ওদিক হচ্ছে।”
শিল্প পুলিশকে উদ্দেশ করে বিজিএমইএর এই নেতা বলেন, “জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ— আমরা একটা সংকটময় সময় পার করব হয়ত। এটার জন্য আপনাদের যথেষ্ট সহায়তা দরকার আছে। বেতন-ভাতা একটা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশি না, বেতন দুয়েক দিন এদিক-ওদিক হলে শ্রমিকরা আমাদের ওপর ঝাপায় পড়তেছে। শ্রম আদালতে চলে যাচ্ছে।
“এটা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় খাত। বৈশ্বিক বাজারে আমরা কঠিন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এক এক সময় এক একটা ঘটে যাচ্ছে। সামনে হয়ত রপ্তানিতে আমাদের একটা বড় সমস্যা পার করতে হতে পারে।”
শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন আছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে। আপনারা জানেন, ইপিজেডের আশপাশের এলাকাগুলোতে অনেক শ্রমিক থাকেন। নির্বাচন সামনে রেখে অনেক রকম সমস্যা হয়ত আমরা দেখতে পারব।”
চট্টগ্রামের শিল্প কারখানার মালিক, শ্রমিক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা আয়োজন করে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ। এতে সভাপতিত্ব করেন শিল্প পুলিশ-৩ এর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশেক মোহাম্মদ শাহাদাত হোছাইন বলেন, “৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের মধ্যে দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত প্রবণতা বেড়ে গেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন প্রবণতা কাজ করছে। এরকম একটা পরিস্থিতি কাম্য না।
আগামীর জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে শিল্পখাতে বিভিন্ন নাশকতার শঙ্কা করে তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চট্টগ্রামের দুইটা ইপিজেড চার পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা। সেখানে একটা শিল্প পুলিশের ফাঁড়ির প্রয়োজন।
রোববার চট্টগ্রাম ইপিজেডে পরিস্থিতিকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হতে পারে মন্তব্য করেন আশেক মোহাম্মদ।
তিনি বলেন, ৩০ নভেম্বর নাসা গ্রুপের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের কথা ছিল। তাদের যে জমি আছে সেটা বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের কথা ছিল্।
“দুদকের মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে গত তিন দিন আগে সম্পত্তি ক্রোক হয়ে গেছে। কালকে সেটা পরিশোধ করার কথা থাকলেও সেটা করা হবে না। সম্ভবত ২৫ শতাংশ পরিশোধ হতে পারে। যার কারণে আগামীকাল আমাদের সামনে একটা চ্যালেঞ্জ আছে।”
এসময় তিনি আরও জানান, “জেএমএস নামে একটা গার্মেন্টস আছে। সেখানে শ্রমিকদের বেতন বকেয়া ছিল। সেটা টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে আমরা বকেয়া পরিশোধ করব।”
সভায় কারাখানা মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত আইজি গাজী জসীম বলেন, দেশের অর্থনীতির সিংহভাগ অবদান গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল সেক্টরের। এটাতে মসৃন রাখতে হলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। যাতে মালিক শ্রমিকরা তাদের টার্গেট অ্যাচিভ করতে পারেন এবং বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতারা যাতে ভালোবোধ করেন। সবকিছু নিশ্চিত করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের যাত্রা।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই ইন্ডাস্ট্রি তার কাজগুলোর সুন্দরভাবে করে যাক এবং শ্রমিকরা যাতে তাদের নায্য অধিকারটা পান। মালিক-শ্রমিক বিরোধ হয় এটা নিষ্পত্তির দায়িত্ব কলকারাখানা অধিদপ্তরের। কিন্তু আমরা সুয়োমুটো ভাবে এটা নিয়ে নি, সমাধানের চেষ্টা করি। আমাদের বিধিতে এটা নাই। কিন্তু আমরা করি।
কারখানা শ্রমিকরা অনেক সময় নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় আবার অনেক সময় অনায্য দাবি করে থাকেন বলেও মন্তব্য করে শিল্প পুলিশ প্রধান।

