আজ বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আহসানুল হাবিব সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সড়ক অবরোধ করা পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সোয়া চারটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান, এপিসি এবং শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনার পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ দিন বিকেল তিনটা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। সকাল থেকেই ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী, আদমজী ইপিজেড এবং কাঠেরপুল-শিবু মার্কেট অঞ্চলের শ্রমিকরা যথারীতি কর্মস্থলে প্রবেশ করেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবির পাঁচ প্লাটুন সদস্য সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
এছাড়া দুপুরের দিকে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
দুপুর আড়াইটার পর ফতুল্লার কাঠেরপুল-শিবু মার্কেট অঞ্চলের শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের চেষ্টা করেন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও চেম্বারের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ সেই আহ্বানে কর্ণপাত না করে বিকেল তিনটার দিকে লিংক রোডের শিবু মার্কেট, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও জালকুড়ি এলাকায় অবস্থান নেন এবং যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেন।
বিকেল সোয়া চারটার দিকে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে, যখন আন্দোলনরত শ্রমিকরা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শ্রমিকদের নিক্ষিপ্ত ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জ ও ধাওয়ায় ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক আহত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ১০ থেকে ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেন।
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, জলকামান ও এপিসি ব্যবহার করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ছোড়া হয়।
এদিকে, শিল্প পুলিশ নারায়ণগঞ্জ-৪-এর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ৪-৫ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ ও ছবি পর্যালোচনা করে উসকানিদাতাদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে শ্রমিকদের সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
Exit mobile version