আজ
|| || ||
‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে আজকে ভুক্তভোগী’ বলা সেই নারী কারাগারে
প্রকাশের তারিখঃ ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের উত্তেজনার মুখে পড়া নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার লাইভে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা অপরাধমূলক বিষয় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার ‘সাথী বিউটি পার্লার’র উদ্যোক্তা। তিনি ওই এলাকার আমজাদ আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন সাথী আক্তার। এ সময় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
লাইভে সাথী আক্তার দাবি করেন, সম্প্রতি তার দুটি শোরুম এবং আশপাশের কয়েকটি দোকানের বিদ্যুৎ ও এসির তার চুরি হয়েছে। তার বাসা থেকেও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা উল্লেখ করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই উদ্যোক্তা। একপর্যায়ে ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। রোববার রাত ৮টার দিকে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় সাথী আক্তারের পার্লারে যান উত্তেজিত জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীরা। সেখানে তার বক্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পার্লারে ভাঙচুরের আশঙ্কায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
পরে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়। সোমবার দুপুরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভ পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা অপরাধমূলক বিষয় খুঁজে পায়নি পুলিশ।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা তার ভিডিও দেখেছি। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাইনি। এটা তার বাকস্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। তবে ব্যবসায়ীরা তার কাছে গেলে তাদের সঙ্গে তিনি মারমুখী আচরণ করেন। যেহেতু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৫১ ধারায় প্রসিকিউশন দিয়ে তাকে আদালতে পাঠিয়েছি।
ময়মনসিংহ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মুস্তাসিনুর রহমান জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাথী আক্তারকে আদালতে তোলা হয়। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ করতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে সেই অপরাধ প্রতিরোধে এ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে ব্যবস্থা নেয়।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.