আজ
|| || ||
গাভা মাদ্রাসার ঘটনায় দুই ধরনের বক্তব্য, নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি
প্রকাশের তারিখঃ ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা :সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের গাভা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজাদুল ইসলামকে ঘিরে এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালে কামড় দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিপরীতে ছাত্রীর বাবার থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুপারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরস্পরবিরোধী এসব বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাত্রীর বাবা মো. মনিরুজ্জামান নয়ন সাতক্ষীরা থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে দাবি করেন, তাঁর মেয়েকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে একটি পক্ষ ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে শিশুটিকে সুপারের বিরুদ্ধে কথা বলতে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং মুখে পুঁইশাকের পাতা ঘষে দাগ তৈরি করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
লিখিত আবেদনে আরও দাবি করা হয়, গত ১৫ অক্টোবর সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর প্রথম ক্লাস শেষে দোকানে খাবার কিনতে যাওয়ার সময় সুপার মো. আজাদুল ইসলাম ছাত্রীকে ডেকে শাসন করেন এবং তার মুখের চোয়াল ধরে দোকানে যেতে নিষেধ করেন। ছাত্রীর বাবা আবেদনে সুপারের বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গাভা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজাদুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির। ২২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মহল তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে ছাত্রীকে ব্যবহার করছে।
এর আগে ২২ অক্টোবর কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ছাত্রীর পরিবারের বরাতে সুপারের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণ, গালে কামড় দেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট, বক্তব্যের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে শুধু একটি ভিডিও বা এক পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
একই ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিওর পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে একদিকে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচারের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি, আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.