আজ
|| || ||
১১ গোলের ম্যাচে ৯টাই হজম করলো বাংলাদেশ
প্রকাশের তারিখঃ ১ অক্টোবর, ২০২৬
ফিফা আসিয়ান কাপে পাওয়ার আর কিছুই বাকি ছিল না, তবে বিদায়বেলায় সঙ্গী হলো চরম লজ্জা ও একরাশ হতাশা। নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণের তোপে রীতিমতো খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে লাল-সবুজের দল। গোলবন্যার এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৯-২ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে টামাস ডুলির শিষ্যরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার ঐতিহাসিক বুং কার্নো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুদল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে বাংলাদেশকে কোণঠাসা করে ফেলে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ইন্দোনেশিয়া। ওলে রমনির ব্যাক পাস থেকে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই লক্ষ্যভেদ করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএল লিগ টুতে খেলা ফরোয়ার্ড মিচেল বেকার। কিছুক্ষণের মধ্যে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে শাহরিয়ার ইমনের বাড়ানো চমৎকার পাসে শমিত সোম নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলে সুযোগটি হাতছাড়া হয়।
সেই আক্রমণ প্রতিহত করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় স্বাগতিকরা। ২০তম মিনিটে বাংলাদেশের গোলরক্ষকের প্রথম সেভ এবং জায়ান আহমেদের ব্লকের পরও বক্সের জটলার ভেতর থেকে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন বেকার।
এরপর বাংলাদেশের রক্ষণকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা শুরু করে ইন্দোনেশিয়া। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে রিজকি রিদোর গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে শাহরিয়ার ইমন এক গোল শোধ করে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম গোলের খাতা খোলেন।
তবে সেই স্বস্তি এক মিনিটও স্থায়ী হয়নি। ৩৭তম মিনিটে রমনির কাট-ব্যাক থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বেকার। গোলের নেশায় মত্ত এই ফরোয়ার্ড ৪২তম মিনিটে চমৎকার হেডে নিজের চতুর্থ ও দলের পঞ্চম গোলটি করেন। প্রথমার্ধের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে জোরালো হেডে জাস্টিন হাবনার বল জালে জড়ালে ৬-১ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে কুলিং ব্রেক পর্যন্ত আর কোনো গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। ৮৪তম মিনিটে অফসাইডের কারণে ইন্দোনেশিয়ার একটি গোল বাতিল হয়। ৮৯তম মিনিটে সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। তবে ৯০তম মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে লক্ষ্যভেদ করেন লুক বিকারি। পরের মিনিটেই (৯১ মি.) রাকিব হোসেনের চমৎকার ক্রস থেকে দুর্দান্ত প্লেসমেন্টে বাংলাদেশের হয়ে ব্যবধান কমান ফারহান আলী (৭-২)।
ম্যাচের শেষদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর চতুর্থ রেফারি অতিরিক্ত ৭ মিনিট যোগ করার সংকেত দেন। সেই যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে কেভিন ডিকস এবং সপ্তম মিনিটে নিজের পঞ্চম গোল করে ইন্দোনেশিয়ার জয় ৯-২ ব্যবধানে নিয়ে যান মিচেল বেকার। রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে চরম বিপর্যয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এর আগে, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল দুবার এক ম্যাচে ৯ গোল হজম করেছিল— প্রথমবার ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবং এরপর ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে। তবে আগের দুটি ম্যাচেই লাল-সবুজের দল ৯-০ গোলে হারলেও এবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে অন্তত দুটি গোল পরিশোধ করতে পেরেছে বাংলাদেশ।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.