সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে এবং তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট চত্বরে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতি।
অভিযোগে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত ই খুদা ও হিসাবরক্ষক মোস্তাজুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতালের বিভিন্ন পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৫৪ জন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী টাকা দেওয়ার পরও নিয়োগ পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী কয়েকজনের অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাপ্রহরীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মোস্তাজুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে তার ব্যক্তিগত সম্পদ, পরিবারের ব্যয় কিংবা বিদেশে পড়াশোনার খরচ হাসপাতালের অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—এমন অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তারা উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি কওছার আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ বলেন, সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভূমিহীন সমিতির পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক মোস্তাজুল অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চক্রান্ত করা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়ে কোনো অনিয়মে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


