পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর খানপুর হাসপাতালের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, ‘আমরা ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা কি কোনোদিন পালিয়ে গিয়েছি? না। আমরা জেল খেটেছি, মামলা খেয়েছি, আবার রাজপথে ঘুরে দাঁড়িয়েছি।’
৫ আগস্টের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া কিছু ব্যক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা ১৭ বছর কোথায় ছিল? এই ১৭ বছরে কয়বার জেল খেটেছে, কয়বার আন্দোলন করেছে, কয়টা মামলা খেয়েছে তারা প্রমাণ দিক।’
সজল বলেন, ‘আমরা রাজপথে সবসময় পরীক্ষিত ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। আমাদের নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে দেশের জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি নির্দেশনা জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা দল বিক্রি করে যুবদল-ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চান, তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—রাজপথে আমরাই ছিলাম, আমরাই থাকব। যারা অপরাধ করবে, তাদের অপরাধের শাস্তি এ দেশের মানুষ দেখে যাবে।’
সমাবেশে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে সংঘটিত খুন, গুম ও হত্যার ঘটনার বিচার ব্যাহত করতে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
নিজ দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন রানা। তিনি বলেন, ‘আমাদেরও কিছু ভালো কাজ করতে হবে। আমরা একটু টেন্ডারবাজি কম করি। আওয়ামী লীগের এসব দোসরকে সাইড না দিই। তাদের বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক বিএনপির আত্মীয়স্বজন চালাচ্ছেন। তারা কীভাবে সেই টাকাগুলো জোগান দিচ্ছেন, তাদের ফেলে যাওয়া কন্ট্রাক্টের কাজগুলো কীভাবে বিএনপির লোকজন করছেন, এটা আসলে দুঃখজনক।’
এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই অর্থই যাতে আমাদের কাল হয়ে না দাঁড়ায়। হয়তো টাকার জন্য আমরা অনেক কিছু করে ফেলব, কিন্তু ৫০০ জনের জন্য সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে।’
রানা আরও বলেন, ‘মানুষের জানমালের ক্ষতি করলে কোনো ছাড় হবে না। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা চাই, আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না।’
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব শাহেদ আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এলাহী সোহাগ, মো. রুহুল আমিন, সাজ্জাদ হোসেন কমল, শেখ মোহাম্মদ অপু ও আবদুর রহমান; স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মমিনুর রহমান বাবু; মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল এবং তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম জিয়াসহ তিন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।



