আজ
|| || ||
জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলের অভিযোগ, নায়েবসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রকাশের তারিখঃ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পরানপুর মৌজায় জমি দখলের উদ্দেশ্যে কথিত জাল দলিল তৈরি, সেগুলো ব্যবহার করে নামজারি এবং জমিতে প্রবেশ করে ক্ষতিসাধনের অভিযোগে ভূমি অফিসের নায়েব মো. রেজাউল করিমসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামিও করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী ধার্য তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২৬।
মামলার বাদী মো. নাইমুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বদ্দীপুর এলাকার বাসিন্দা। মামলার নথি অনুযায়ী, শ্যামনগর উপজেলার পরানপুর মৌজার বিভিন্ন দাগের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বাদীপক্ষের দাবি, তারা উত্তরাধিকার ও ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বসতবাড়ি, পুকুর, ফলদ গাছ ও মৎস্যঘেরসহ বিভিন্নভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষের লোকজন জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা ও দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথিত জাল দলিল তৈরি করে। অভিযোগে ২৬১৫ নম্বর (৩ জুন ১৯৯৮), ২৬১৬ নম্বর (৩ জুন ১৯৯৮), ২৩৬২ নম্বর (১০ মে ২০০০), ৫১২৬ নম্বর (১২ ডিসেম্বর ১৯৯৮) ও ৩১২২ নম্বর (১২ জুলাই ১৯৯৮) দলিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, এসব দলিলে স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এমনকি কয়েকজন কথিত দাতা দলিল সম্পাদনের তারিখের আগেই মারা গিয়েছিলেন বলেও মামলার অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, এসব বিতর্কিত দলিলের ভিত্তিতে শ্যামনগর ভূমি অফিসে জমির কিছু অংশ নামজারি করা হয়। পরে ওই নামজারি বাতিলের জন্য তারা আবেদন করলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্তরা দা, লাঠি, কোদাল ও শাবলসহ জমিতে প্রবেশ করে বাদীপক্ষকে গালিগালাজ করেন এবং কথিত দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করেন। এ সময় বসতঘর ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে এবং প্রায় ১৫ বিঘা আয়তনের মৎস্যঘেরের একাংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
এদিকে মামলার ৭ নম্বর আসামি কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. রেজাউল করিম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে মুঠোফোনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নামজারিটি ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সম্পন্ন হয়েছে এবং সেটি করেছেন জনাব আয়নুল হক। তিনি কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেছেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।
নায়েব রেজাউল করিম আরও বলেন, ওই নামজারির বিরুদ্ধে উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় মামলা হলে তিনি সেখানে সংশ্লিষ্ট দলিলের সঠিকতা নির্ণয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মতামত দিয়েছেন। তার ভাষ্য, তিনি যখন সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগদানই করেননি, তখন তার সময়ে ওই নামজারি করার প্রশ্ন ওঠে না।
অন্যদিকে, বাদীপক্ষের দাবি, মামলার ৭ নম্বর আসামি নায়েব মো. রেজাউল করিমও কথিত জাল দলিলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দলিলের ভিত্তিতে নামজারি ও জমি সংক্রান্ত কার্যক্রমে তার ভূমিকা রয়েছে। তবে নায়েব এ অভিযোগ অস্বীকার করে তার যোগদানের সময় ও নামজারির তারিখের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
বাদীপক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গোলাম রসুল খোকনের সহযোগিতায় কথিত জাল দলিল তৈরি ও ব্যবহারের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে গোলাম রসুল খোকনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মামলার নথিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। জমির প্রকৃত মালিকানা, দলিলগুলোর বৈধতা, নামজারি প্রক্রিয়া এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.