আজ
|| || ||
সাতক্ষীরার ভালুকা চাঁদপুরে ২০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, ৪ জনের বিরুদ্ধে নালিশ
প্রকাশের তারিখঃ ২৬ আগস্ট, ২০২৬
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুরে ২০ শতক জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। জমি দখলের চেষ্টা, হামলার হুমকি ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশী দরখাস্ত করেছেন মো. নূর ইসলাম ফারুকী।তাঁর দাবি, জমিটি তাঁদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) নূর ইসলাম ফারুকী সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় এ আবেদন করেন। এতে মো. হুমায়ুন কবির (৪৫), রবিউল ইসলাম (৫০), আবুল হোসেন (৬৫) ও আরিফুল ইসলাম (৩৮)-কে দ্বিতীয় পক্ষ করা হয়েছে।
নালিশী দরখাস্ত সূত্রে জানা যায়, ভালুকা চাঁদপুর মৌজার ২০ শতক জমিসহ সংশ্লিষ্ট ৭৬ শতক জমি আবেদনকারীর বাবা মৃত আলহাজ্ব ইসহাক আলী সরদারের নামে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। নূর ইসলাম ফারুকীর ভাষ্য, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে তাঁর মা নূর জাহান বেগমের কবরও রয়েছে।
নালিশে বলা হয়েছে, পরবর্তী জরিপে ২০ শতক জমি বাংলাদেশ সরকারের জেলা প্রশাসকের নামে খাস রেকর্ডভুক্ত হয়। বিষয়টি জানতে পেরে রেকর্ড সংশোধনের জন্য সাতক্ষীরা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে এলএসটি-১২৯১/২১ নম্বর মামলা করেন নূর ইসলাম ফারুকী। ওই মামলায় ২০২২ সালের ১৪ জুন তাঁর পক্ষে রেকর্ড সংশোধনের আদেশ দেওয়া হয় বলে নালিশে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে রেকর্ড সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
নূর ইসলাম ফারুকী বলেন, “আমরা ৫২ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। ২০ শতক জমি সরকার খাস করার পর আদালতে মামলা করি। ২০২২ সালের ১৪ জুন আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। রায়ের পর আমরা জমিতে ভোগদখলে আছি। এখন চারজন জোরপূর্বক জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছেন।”
নালিশী দরখাস্তে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে দ্বিতীয় পক্ষের চারজন দা, লাঠি, শাবল, কাস্তে ও কোদাল নিয়ে জমির পূর্ব পাশে সরকারি পাকা সড়কের ওপর অবস্থান নেন। বিষয়টি জানতে পেরে নূর ইসলাম তাঁদের বাধা দিলে তাঁকে মারধর ও গুরুতর জখমের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে রক্ষা করেন বলেও নালিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীর আরও অভিযোগ, পরে দ্বিতীয় পক্ষের লোকজন জমিটি দখল করে নেওয়া, বাড়িঘর ও তাঁর মায়ের কবরস্থান ভেঙে দেওয়াসহ সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণের হুমকি দেন। এতে যেকোনো সময় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শান্তিশৃঙ্খলার অবনতি ও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তিনি।
নূর ইসলামের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী সহকারী এসএম আমির হামজা বলেন, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধনের জন্য নূর ইসলাম আবেদন করেছেন। ভূমি অফিসে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ২০ শতক জমিটি মসজিদের দাগভুক্ত নয়। আলহাজ্ব ইসহাক আলী সরদার মসজিদের জন্য অন্য জমি দান করেছিলেন বলেও তিনি জানান।
এসএম আমির হামাজ আরও বলেন, “কেউ যদি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন যে জমিটি বর্তমানে খাস, তাহলে সেটি মেনে নেওয়া হবে। বিরোধের সঠিক সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।”
অপর পক্ষের মোহাম্মদ হযরত আলী বলেন, তিনি আলহাজ্ব ইসহাক আলী সরদারের নাতি। তাঁর দাবি, ওই জায়গা তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখলে ছিল। তিনি বলেন, “এই জায়গায় আমার বড় মামার ঘর, রান্নাঘর, দোকান ও গোয়ালঘর ছিল। মসজিদের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য পরে এসব সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক জায়গাটি দখল বা পাকা নির্মাণের চেষ্টা করছেন। আমরা সঠিক বিচার চাই।”
হযরত আলী আরও বলেন, তাঁর দাদা আলহাজ্ব ইসহাক আলী সরদার ওই এলাকায় মসজিদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ সেখানে নামাজ আদায় করে আসছেন। সম্প্রতি জমিটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজনের বক্তব্যেও জমিটি দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি পাওয়া গেছে। এক পক্ষের দাবি, জমিটি তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি; অন্য পক্ষের দাবি, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর জমিটির মালিকানা তাঁদের পক্ষে এসেছে।
নালিশে উল্লিখিত জমিটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর মৌজার সাবেক জেএল নম্বর ১০৬, এসএ খতিয়ান নম্বর ১৮২/১, সাবেক দাগ নম্বর ২৭৬৩ এবং বর্তমান জরিপের জেএল নম্বর ১১৪, বিএস খতিয়ান নম্বর ১, দাগ নম্বর ৩২৫৯। জমির পরিমাণ ২০ শতক।
এ ঘটনায় তপশীলভুক্ত জমিতে দ্বিতীয় পক্ষের দখল, নির্মাণকাজ কিংবা শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়—এমন কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন নূর ইসলাম ফারুকী। তাঁর দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে দ্বিতীয় পক্ষের অন্যতম ব্যক্তি রবিউল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অপর পক্ষের অন্যদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে। নালিশে করা অভিযোগগুলোর সত্যতাও তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষ।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.