সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতের ভেতরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানার ওসি মাসুদুর রহমান, ডিউটি অফিসার এস এস আই পিংকি রায় ও এনিভা খাতুনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকালে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, তাদের প্রত্যাহারের সঙ্গে এসব অভিযোগের সম্পর্ক নেই।
জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, আওয়ামী লীগের নেতা মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে ওসির ‘বিশেষ অনুমতি নিয়ে’ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী থানা হাজতের সামনে গিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
১৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও বক্তব্যে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী থানায় আসছিলেন। এসময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এক ব্যক্তি থানা হাজতে এসে তার সঙ্গে দেখা করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন।
জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মাস খানেক আগে খুলনার রেঞ্জ ডিআইজি সাতক্ষীরায় এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এসময় সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে। সম্প্রতি জেলা ছাত্রদল নানাবিধ কারণে ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে সমাবেশ করে। এ ছাড়া থানা হাজতের মধ্যে থাকা আসামিদের ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সবর হন। এসব কারণে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমানকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে ওসিকে প্রত্যাহারের সঙ্গে এসব অভিযোগের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার।
তিনি জানান, ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়মিত বদলির অংশ।


