গাজীপুর (শ্রীপুর) প্রতিনিধি-
গাজীপুরের শ্রীপুরে সন্ত্রাস, মাদক ও সংগঠিত অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন। তিনি বলেছেন, শ্রীপুর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে নিয়মিত উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। অপরাধ দমনে পুলিশ একা সফল হতে পারবে না; রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে শ্রীপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা মাদক কারবার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মাদক কারবারিদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছেই পৌঁছে যায়। ফলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই অভিযুক্তরা সরে পড়ে এবং অভিযান ব্যাহত হয়।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন বলেন, “আপনাদের শ্রীপুর থানা নিয়ে আমার ঘুম হারাম। অন্য কোনো থানা নিয়ে আমার এত পেরেশানি নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি অভিযোগ শুনতে আসিনি, আপনাদের কাছে অভিযোগ দিতে এসেছি।” তাঁর মতে, শুধু পুলিশের অভিযানে নয়, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেই সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল সম্ভব।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, থানায় এসে তদবির করেননি?” অপরাধীদের পক্ষে রাজনৈতিক বা সামাজিক সুপারিশ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনের প্রয়োগে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধ দমনের সূচনা হতে হবে নিজ পরিবার ও সমাজ থেকেই। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী বা পরিচিত কেউ মাদক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত শ্রীপুর গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্ভুল তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা বাড়লে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”
সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় পুলিশ।



