সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, মারধর ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী, সতীন ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক গৃহবধূ। সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী ০৮ নম্বর আদালতে সি.আর. মামলা নং-২০৯/২০২৬ হিসেবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ আগস্ট ২০২৬।
আদালতে দাখিল করা নালিশ সূত্রে জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার ফকরাবাদ গ্রামের মোছাঃ নুপুর খাতুন বাদী হয়ে তার স্বামী মোঃ হাবিবুর রহমান, সতীন আলিয়া সুলতানা এবং শাশুড়ি জামেলা খাতুনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী এক লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিবাহ হয়। বিবাহের সময় নগদ অর্থ, গৃহস্থালি সামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কার প্রদান করা হয়। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, বিবাহের কিছুদিন পর থেকেই আসামিরা এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। গত ১৭ মে ২০২৬ তাকে মারধর করে শিশু সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরদিন তিনি আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ পাওয়ার পর ২০ মে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
বাদীর মা মুসলিমা খাতুন বলেন, “আমার জামাই দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে ফেলে রেখে আলাদা থাকছে। পরে সে আরেকজন নারীকে বিয়ে করেছে। আমরা চাই, যদি সে আইনগতভাবে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করে আমার মেয়েকে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়ে আবার সংসার করতে চায়, তাহলে আমার মেয়ে রাজি। অন্যথায় আমরা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।”
অন্যদিকে মামলার ২ নম্বর আসামি আলিয়া সুলতানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার সঙ্গে হাবিবুর রহমানের ছোটবেলার পরিচয়ের সূত্রে বিয়ে হয়। কিছুদিন সংসার করার পর পারিবারিক সমস্যার কারণে আমি বাবার বাড়িতে চলে আসি। আমাদের মধ্যে দেনমোহর বা অন্যান্য বিষয়ের কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। পরে তিনি অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর বিভিন্নভাবে আমাকে নিয়ে অপপ্রচার ও হয়রানি করা হচ্ছে। বর্তমান মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
আলিয়া সুলতানার বাবা সাইদুল ইসলাম দাবি করেন, “আমার মেয়ের বিয়েতে আমি প্রথমে রাজি ছিলাম না। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমার মেয়ে আমাদের বাড়িতে ফিরে আসে। তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ বা দেনমোহরের নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তীতে তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে আবার বিয়ে করেছে। বর্তমানে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়।”
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।



