আজ
|| ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা সফর, ১৪৪৮ হিজরি
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী রক্ষার লড়াই: সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর একক প্রচেষ্টায় বিপিসি চট্টগ্রামেই থাকছে
প্রকাশের তারিখঃ ১৫ জুলাই, ২০২৬
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী রক্ষার লড়াই: সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর একক প্রচেষ্টায় বিপিসি চট্টগ্রামেই থাকছে
"নোমান উল্লাহ বাহার'
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের চক্রান্ত সচেতন চট্টলাবাসী ও বীর চাটগাঁইয়ার তীব্র আন্দোলনের মুখে নস্যাৎ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান, নির্ভীক সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর একক ও আপসহীন ভূমিকার কারণে শেষ পর্যন্ত বিপিসি চট্টগ্রামেই রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে চট্টগ্রামের জয়পাহাড়ে নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয়ে বিপিসির কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকা স্থানান্তরের গোপন প্রস্তুতি শুরু হলে চট্টগ্রামের স্বার্থ রক্ষায় ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ব্যানারে তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেন আন্দোলনকারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন—"বিপিসি চট্টগ্রামেই থাকবে।" মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর নাগরিক উন্নয়ন সংগঠন ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র পক্ষে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী সাময়িকভাবে মানববন্ধন ও আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন।
এরপর চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১২ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেয় ‘সচেতন চট্টলাবাসী’। কিন্তু অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান গোপনে চট্টগ্রাম থেকে দপ্তরটি ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য চিঠি চালাচালি শুরু করেন।
এই গোপন চক্রান্তের খবর ফাঁস হতেই ফুঁসে ওঠেন সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী। তিনি বিপিসি চেয়ারম্যানের এই হীন উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেটে পড়েন এবং অবিলম্বে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে যেকোনো মূল্যে বিপিসি চট্টগ্রামে রাখার ঘোষণা দিয়ে পুনরায় রাজপথের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর এই আপসহীন ও বজ্রকঠিন নেতৃত্বের মুখে বিপিসি কর্তৃপক্ষ নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামের জয়পাহাড়ে তাদের নিজস্ব কার্যালয় চালু করে। এই গৌরবময় বিজয়ের পর ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র পক্ষে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, বিপিসিকে চট্টগ্রামে ধরে রাখার এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর একক অবদান অনন্য। চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষার এই লড়াকু বীরকে চাটগাঁবাসী আজীবন পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
বিপিসি রক্ষা আন্দোলন ও একজন সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী.
চট্টগ্রামকে বলা হয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড ও বাণিজ্যিক রাজধানী। কিন্তু বারবার এই চট্টগ্রামের সম্পদ ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার এক অদৃশ্য চক্রান্ত আমরা লক্ষ্য করেছি। এমন এক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যখন বিপিসিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাচারের সব বন্দোবস্ত চূড়ান্ত, ঠিক তখনই চাটগাঁর স্বার্থ রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন একজন মানুষ—তিনি সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী।
ইতিহাস সাক্ষী, বিপিসি স্থানান্তরের চক্রান্তের বিরুদ্ধে যখন ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ব্যানারে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়, তখন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন বিপিসি চট্টগ্রামেই থাকবে। মন্ত্রীর সেই ঘোষণাকে সম্মান জানিয়ে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী আন্দোলন স্থগিত করেন এবং চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী করার ১২ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
কিন্তু আমলাতান্ত্রিক চক্রান্ত কতখানি গভীর হতে পারে, তা প্রমাণিত হয় যখন অর্থ মন্ত্রীর আশ্বাসের পরও বিপিসি চেয়ারম্যান গোপনে দপ্তরটি ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য চিঠি পাঠান। এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে যিনি প্রথম গর্জে উঠেছিলেন, তিনি সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী। তিনি একা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বিপিসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন এবং ঘোষণা দেন—"বিপিসি চাটগাঁর মাটি ছেড়ে কোথাও যাবে না।"
তার সেই একক ও অনমনীয় সংগ্রামের মুখে আজ বিপিসি চট্টগ্রামের জয়পাহাড়ে নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এটি কেবল একটি দপ্তরের থেকে যাওয়া নয়, এটি চট্টগ্রামের কোটি মানুষের অধিকারের জয়। এই সফল আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী যে উদারতা দেখিয়েছেন, তা চাটগাঁর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিরই অংশ।
সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর এই একক লড়াকু ভূমিকা চট্টগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক স্বাধিকার রক্ষার এই মহানায়ককে চাটগাঁবাসী আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবে। তিনি আমাদের দেখিয়েছেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে একজন মানুষই কীভাবে পুরো একটি চক্রান্তকে রুখে দিতে পারে।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.