আজ শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

— গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও বাউরাপাড়া এলাকায় সুমি নামের এক নারীকে কেন্দ্র করে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারী তার বাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি করে আসছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অভিভাবকরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

 

অভিযোগের বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুমি এলাকার প্রবাসী সোহেলের স্ত্রী। স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি একাই বাড়ি সামলান। কিন্তু প্রতিবেশীদের অভিযোগ, তিনি সেই সুযোগে ইয়াবা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। দিনের বিভিন্ন সময়ে তার বাড়িতে ও আশপাশে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায়, যা স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সুমি শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের কাছেই নয়, বরং স্থানীয় কিশোর, তরুণ ও এমনকি স্কুলপড়ুয়া শিশুদের কাছেও ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অভিভাবকরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে মাদকের সহজলভ্যতা নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জামাল হোসেন বলেন, *”আমরা অনেকদিন ধরে দেখছি, ওই বাড়িতে সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলছে। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এখন শিশুরাও যেন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, সেটা চিন্তার বিষয়। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”*

অন্য এক গৃহবধূ রিনা বেগম জানান, *”আমার ছেলে প্রতিদিন স্কুলে যায়। আমি ভয় পাচ্ছি, কোথায় যেন মাদক পেয়ে না বসে। এমন অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তবে ওই নারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।”*

স্থানীয় যুবক ও শিক্ষার্থীরাও মাদকের এই প্রবণতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

 

সমাজের সচেতন মহলের মতামত

এলাকার সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদক ব্যবসা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের টার্গেট করে মাদক ছড়ানো হলে তা সামাজিক অবক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করবে। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শ্রীপুরের একজন শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, *”মাদক যেন কোনও শিশুর কাছে না পৌঁছায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এটা শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি আমাদের সমাজের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

প্রশাসন ও পুলিশের অবস্থান

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি তারা গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কোনো ছাড় দেওয়ার নীতি নেই।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নজরে রেখেছেন বলে জানা গেছে। তারা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। ইউপি সদস্য আব্দুল গনি বলেন, *”আমরা বিষয়টি জানার পর থেকেই পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলছি। প্রয়োজনে অভিযান চালানো হবে।

প্রেক্ষাপট ও উদ্বেগ

উল্লেখ্য, রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অতীতে একাধিকবার মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু শিশু-কিশোরদের মাদক চক্রে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রবণতা রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়, বরং পরিবার, স্কুল, স্থানীয় সমাজ এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

গাজীপুর জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মাদক নির্মূলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। তারা মনে করেন, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সমাজের প্রতিটি স্তরকে এখন সজাগ থাকতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম মাদকের কালো ছোবল থেকে রক্ষা পায়।

Exit mobile version