আজ
|| ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি
চট্টগ্রামে ২৩ মাসে ১৩৬ খুন, ৫৫ জন বিএনপির
প্রকাশের তারিখঃ ২ জুলাই, ২০২৬
দুই মেয়ে ও প্রতিবন্ধী এক ছেলের জন্য ঈদের নতুন পোশাক কিনতে গিয়েছিলেন নাছির উদ্দিন। তবে পোশাক নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি। সন্তানদের সামনেই পিটিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় তাঁকে।
গত বছরের ২৬ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে এ ঘটনা ঘটে। নাছির উদ্দিন সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনায় আটজনের নামে মামলা করেন নাছিরের স্ত্রী মোমেনা খাতুন। আসামিদের সবাই বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। চারজন গ্রেপ্তার হন। তারা হলেন– মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাসেল, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল, উপজেলা যুবদলের সদস্য আনোয়ার হোসেন ও প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইমরান। তবে মোমেনা নিজেই আদালতে গিয়ে মুচলেকা দিয়ে তাদের মুক্ত করান।
মোমেনা খাতুন বলেন, ‘চারজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। কিন্তু তাদের ছাড়াতে চাপ দিলেন বিএনপির বড় নেতারা। প্রাণনাশের হুমকিও পেলাম। শেষ পর্যন্ত আদালতে গিয়ে মুচলেকা দিয়ে তাদের মুক্ত করালাম। জামিন পেয়ে খুনিরা এখন বুক ফুলিয়ে ঘুরছে।’
শুধু নাছির উদ্দিনই নন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রায় ২৩ মাসে চট্টগ্রামে অন্তত ১৩৬ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫ জনই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এসব খুনের মামলায় আসামি হয়েছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শতাধিক পদধারী নেতা।
চট্টগ্রামের কোথায় কত খুন
চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা– তিনটি সাংগঠনিক এলাকা থাকলেও দলীয় কোন্দল বা আধিপত্য বিস্তারের মতো ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিএনপির নেতাকর্মী খুন হয়েছেন উত্তর জেলার পাঁচ উপজেলায়। এগুলো হলো– সীতাকুণ্ড, রাউজান, মিরসরাই, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি।
সীতাকুণ্ডে সর্বাধিক ৩৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে আটজনই বিএনপির নেতাকর্মী। রাউজানে ২৬ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জন বিএনপির নেতাকর্মী। মিরসরাইয়ে ২৭ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন বিএনপির নেতাকর্মী। বাকি ১৮টি খুন জমিজমা বা পারিবারিক বিরোধের কারণে ঘটেছে। এখানে হত্যার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন বিএনপির নেতাকর্মী। রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে হত্যার শিকার ১৫ জনের মধ্যে আটজন বিএনপির নেতাকর্মী। চট্টগ্রাম নগর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে ১৬ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন বিএনপির নেতাকর্মী।
সবচেয়ে বেশি খুন সীতাকুণ্ড উপজেলায়
আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৩ মাসে সীতাকুণ্ডে ৩৬ জন খুন হয়েছেন। জেলার ১৬টি উপজেলার মধ্যে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক খুন। এর মধ্যে নিজেদের কোন্দলে খুন হয়েছেন বিএনপির আট নেতাকর্মী। এ ছাড়া মব সৃষ্টির মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে পাঁচজনকে। জমিজমার বিরোধে খুন হয়েছেন ১৪ জন। পারিবারিক কলহে প্রাণ হারিয়েছেন চার নারী। এ ছাড়া দুই শিশুসহ আরও পাঁচজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় খুন করা হয়েছে র্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে। এই মামলায় যারা আসামি, বেশির ভাগই বিএনপির নেতাকর্মী। এখানে রোকন-গফুর বাহিনীর সংঘর্ষে খলিলুর রহমান কানু নামে একজন নিহত হন। মীর আরমান হোসেন রানা নামে শ্রমিক দলের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তিনি সলিমপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন।
গত বছর মোহাম্মদ মাসুদ নামে বিএনপির এক নেতা খুন হন। জঙ্গল সলিমপুরে ৫ নম্বর ছিন্নমূল এলাকায় ইট, বালু, কংক্রিট ব্যবসা দখল নিয়ে এই খুনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিএনপি নেতা কামরুল হাসান ওরফে রিদোয়ান সহযোগীদের নিয়ে মাসুদকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে খুন করেন বলে অভিযোগ আছে। একই সময় বিএনপির সমর্থক আবুল কালামকে মারধরের পর হত্যা করা হয়। মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় কোনো মামলা করেনি পরিবার।
চলতি বছরের ১১ মার্চ মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ও বিএনপির নেতা আলিমের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে গুপ্তাখালী নামক স্থানে হত্যার শিকার হন যুবদল নেতা সজীব।
রাউজানে বিএনপির নেতাকর্মী খুন সবচেয়ে বেশি
গত বছরের ১৯ এপ্রিল এখানে খুন করা হয় যুবদলের কর্মী মানিক আবদুল্লাহকে। ১৫ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী এসে ভাত খাওয়ার সময় মুখে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে গুলি করে তাঁকে হত্যা করে। একই বছর রাউজান উপজেলা সদরের কাছে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে খুন হন যুবদলের কর্মী ইব্রাহিম। ইফতার মাহফিল নিয়ে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ছুরিকাঘাতে খুন হন যুবদলের কর্মী কমর উদ্দিন জিতু। হাটহাজারীর ব্যস্ত সড়কে গাড়ি থামিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপির কর্মী আবদুল হাকিমকে। এই হত্যা মামলার আসামিও বিএনপিদলীয় নেতাকর্মী। রাউজানে যুবদলের কর্মী মো. আলমগীর ওরফে আলম ও কদলপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. সেলিমকে খুন করেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ‘সম্পৃক্ত’ থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান। জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে বিএনপিদলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে গণসংযোগে অংশ নেন আট হত্যা মামলার এই আসামি। উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে গত ১৩ জুন প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পাশের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযোগ আছে, হত্যাকারীরা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
মিরসরাইয়ে ২১ মাসে ২৭ হত্যাকাণ্ড
মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে যুবদল নেতা রফিক উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বিএনপির একটি পক্ষ এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হিসেবে দাবি করেছে। তবে আরেক পক্ষ দাবি করে, অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি কারখানা লুট করতে গিয়ে গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়। একই বছরের ১০ অক্টোবর মিরসরাইয়ের হিংগুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি কবির হোসেনকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে।
গত বছরের ১৩ জানুয়ারি শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় মুন্না নামে যুবদলের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই বছরের ২৬ মার্চ মিরসরাইয়ে বারইয়ারহাট এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জাবেদ হোসেন নামে এক যুবদলের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ১০ ডিসেম্বর বারইয়ারহাট পৌরবাজারে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাহমিদ উল্যা নামে এক যুবককে। করেরহাট ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের হামলায় শাহরিয়ার আহম্মদ হৃদয় নামে এক ছাত্রদল নেতা খুন হন।
ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ায় ১০ খুন
ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ায় অন্তত ১০টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাঙ্গুনিয়ার শান্তির হাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রমজান আলী নামে এক যুবদলের কর্মী প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হন। ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের বড় বেতুয়ায় মো. শহীদ নামে এক বিএনপির কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত ৯ জানুয়ারি উপজেলার বাগানবাজারে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ার জেরে দুলায়েত হোসেন দুলালকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনিও বিএনপির সমর্থক। ভূজপুর থানা এলাকায় মাসুম নামে এক যুবদলের কর্মী প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন।
দক্ষিণের জেলায় খুনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই
চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড দক্ষিণের সাত উপজেলায়। নবগঠিত কর্ণফুলীতে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও এগুলোর পেছনে রাজনৈতিক কারণ ছিল না।
পটিয়ায় শিশুসহ ১০ জনকে হত্যা
পটিয়ায় কমপক্ষে ১০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মূলত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ, মাদক ব্যবসা, পূর্বশত্রুতা ও ছিনতাইয়ের জেরে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচ বছরের শিশু মো. জাইহান খুন ছিল সবচেয়ে আলোচিত। গত ১৮ জুন পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দরখিল এলাকার শিশুটিকে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একই মাসে কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন পংকজ শীল। ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর হাইদগাঁও কাজীপাড়া এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজার হাতে নিহত হন রাশেদ। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর হাইদগাঁও ফইজ্জারপুল এলাকায় খুন হন রাজীব দাশ। পূর্বশত্রুতা বা ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে পটিয়ায় খুন হন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কাশেম।
আনোয়ারায় ৬ খুন, একজন যুবলীগের কর্মী
আনোয়ারা উপজেলায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর্থিক লেনদেন, পারিবারিক কলহ এবং মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধেই খুন বেশি হয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে খুন হন মোহাম্মদ মানিক (৩২)। গত বছরের মার্চে পরৈকোড়া ইউনিয়নে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কর্মী ছিলেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিরোধে খুন হন এনি বড়ুয়া (৪০) ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। গত মাসে পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে নিজ ঘরে ঢুকে মা এনি ও দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ন্তীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে আনোয়ারার চাতরী, বরুমচড়া ও উপকূলীয় এলাকায় পারিবারিক বিরোধ এবং ছিনতাইকারীর হামলায় আরও তিনজন নিহত হন।
চট্টগ্রাম মহানগরে পাঁচ হত্যাকাণ্ড
নগরীতেও সংঘটিত হয়েছে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড। গত বছর নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন হন বাস্তুহারা ইউনিট কমিটি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূর আলম। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার বার্মা কলোনি ও শান্তিনগর কলোনিতে মো. সবুজ ও মো. শাহ আলমের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন বিএনপির কর্মী মো. ইমন। অ্যাক্সেস রোড এলাকায় ২০২৪ সালে পৃথক ঘটনায় দুজন খুন হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে নগরের চান্দগাঁওয়ে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে খুন হন জোবায়ের নামে এক যুবদলের কর্মী।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শওকত আলী বলেন, ‘অপরাধীর কোনো দল নেই। সে যে দলেরই হোক, আমরা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করি। অনেক সময় আসামিকে ছাড়াতে তদবির আসে। আমরা সেটি প্রত্যাখ্যান করি।’
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.