আজ
|| ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ই মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
সাংবাদিকের ছদ্মবেশে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল: রাজাবাড়ীর সজিবের বিরুদ্ধে থানায় নতুন মামলা, পূর্বেও ছিল কারাদণ্ড
প্রকাশের তারিখঃ ৩০ জুন, ২০২৬
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের নালিয়াটেকি গ্রামে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকের ছদ্মবেশে একাধিক বিবাহিত নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে মোঃ সজিব (৩৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করলে নতুন করে আলোচনায় আসে তার পুরোনো অপরাধের ইতিহাস। স্থানীয়রা অভিযুক্ত সজিবকে ‘ভয়ংকর রেপিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
শিক্ষাজীবনের পতন ও অপরাধী চরিত্রের উত্থান
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সজিব বিল্লাল পালোয়ানের ছেলে। তিনি ২০১২ সালে এসএসসি পাস করার পর ধলাদিয়া ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে নিয়মিত পড়ালেখা না করায় তিনি দ্রুত পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়েন। পরে তিনি মুন্সীগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিপ্লোমা programme-এ ভর্তি হলেও পঞ্চম সেমিস্টার পর্যন্ত কোন সেমিস্টারেই পাস করেননি। শিক্ষাজীবনের এই ব্যর্থতাই তাকে অপরাধের পথে ঠেলে দেয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
*সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে প্রতারণা ও নারী নির্যাতন*
পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার পর সজিব নিজেকে সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। কিন্তু তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময় মানুষকে নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি স্থানীয় বিবাহিত নারীদের পারিবারিক সমস্যার সুযোগ নিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং গোপনে তা ভিডিও ধারণ করতেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে তিনি তাদের মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এমনকি ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তিনি নারীদের যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন দপ্তরে দালালি ও সাংবাদিক পেশা ব্যবহার করে প্রতারণা করেছেন। জমির নামজারির নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সমাজের পারিবারিক ছোটখাটো বিষয়কে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করেছেন। মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
একাধিক মামলা ও পূর্বের কারাদণ্ড
পুলিশ জানিয়েছে, সজিবের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় এর আগেও একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তিনি এর আগে ধর্ষণ মামলায় কারাভোগও করেছেন। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেও তিনি তার অপরাধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত ছিলেন না। সম্প্রতি তিনি আবারও এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ওই নারী সাহস করে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ আবারও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।
ভুক্তভোগীর বর্ণনা ও প্রতিক্রিয়া
মামলার বাদী ওই গৃহবধূ জানিয়েছেন, সজিব তাকে বিশ্বাসের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে এবং পরে ভিডিও ধারণ করে তাকে হুমকি দেয়। তিনি দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করার পর শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যেন সজিবের মতো প্রতারক আর কাউকে শিকার করতে না পারে।
*পুলিশের অবস্থান ও গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা*
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, *"আমরা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্ত সজিবকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার আগের অপরাধের রেকর্ডও আমাদের কাছে আছে। আমরা দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি।"*
*স্থানীয় জনমত ও দাবি*
স্থানীয় বাসিন্দারা সজিবের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সজিব দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ করে আসছিল কিন্তু ভয়-ভীতির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। সম্প্রতি ভুক্তভোগী সাহস করে মামলা করায় অন্য নির্যাতিত নারীরাও আইনের কাছে ন্যায়বিচার চাইবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তারা প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যেন এ ধরনের অপরাধ পুনরায় না ঘটে।
*আইনজীবীদের মতামত*
আইনজীবীরা বলছেন, সজিবের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণা—এই তিনটি ধারায় একযোগে মামলা হওয়া উচিত। তারা বলেন, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা সাইবার অপরাধও বটে। তাই এ মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকতার মহান পেশাকে ব্যবহার করে এক ব্যক্তি যখন অপরাধী কর্মকাণ্ড চালায়, তখন তা সমাজে আতঙ্ক ছড়ায়। সজিবের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সজাগ দৃষ্টি থাকা আবশ্যক যেন এই ধরনের ছদ্মবেশী অপরাধীরা সমাজের শান্তি নষ্ট করতে না পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.