আজ
|| ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
মোবাইল চুরির অপবাদে ছাত্রাবাসে মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা, অভিযোগ পরিবারের
প্রকাশের তারিখঃ ১৮ জুন, ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসানের (১৪) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার দুই দিনেও মামলা হয়নি। আইফোন চুরির অপবাদে নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তসহ আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেট থেকে বিক্ষোভ নিয়ে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। চৌরাস্তায় অবরোধ করে মানববন্ধন করায় লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ও রামগঞ্জ-চাটখিল সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, এর আগে বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নিহতের মরদেহ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী ও স্বজনরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একই দিন ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিবৃতি দেয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত মেহেদি রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে ও ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ‘খ’ শাখার ছাত্র ছিল। সে প্রতিষ্ঠানের আব্দুর রহমান হলে থাকত। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ছাত্রাবাস থেকে মেহেদিকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে রাতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান গেট ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে উত্তেজিত এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে মেহেদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দুইজন শিক্ষার্থী জানায়, দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যায়। এতে সিনিয়ররা মেহেদীসহ কয়েকজনকে সন্দেহ করে। পরে তাদের মারধর করে।
মেহেদির মা শারমিন আক্তার বলেন, একটি আইফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ করে আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির জেষ্ঠ্য প্রভাষক শরিফুল ইসলাম বলেন, মেহেদীকে মারধরের অভিযোগে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই খবর পাই মেহেদী গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীর পরিবারকে মামলা করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনাটি গুরুতের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, আমি শিক্ষার্থীর জানাজায় অংশগ্রহণ করেছি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.