বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের ব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগমকে উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জারি করা এক আদেশে শাহনাজ বেগমকে ডিজিএম পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে একই দিনে ওই দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়।
বিমান সংশ্লিষ্ট অভিযোগ জানিয়েছেন, শাহনাজ বেগমকে ঘিরে অতীতেও বিভিন্ন বিতর্ক ছিল। তাদের দাবি, চাকরিতে যোগদানের প্রায় ৩৩ বছর পর জন্মতারিখ সংশোধনের মাধ্যমে তিনি চাকরির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করেন। এছাড়া তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। শিডিউলিং ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ফ্লাইট ডিউটি বণ্টনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, যার ফলে অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী বঞ্চিত হয়েছেন। এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও তৈরি হয়েছিল।
এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটের ক্রু নির্বাচন নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কয়েকজন ক্রুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় শাহনাজ বেগমের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ থাকলেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এক কর্মকর্তা জানান, ম্যানেজার শাহনাজ বেগমকে ডিজিএম পদে স্থায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে না করলে সেই দায়িত্ব প্রত্যাহার করতেই পারে।



