শ্রীপুর প্রতিনিধি-
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর নির্মিত ব্রিজ ধসে পড়ায় কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের হেরা পটকা গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির সড়কের ওপর নির্মিত ব্রিজটি গত ১৫ জুন ভোরে একটি ভারী যানবাহন পারাপারের সময় হঠাৎ ধসে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই সড়কটিতে সকল ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, ব্রিজটি ওই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ছিল। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক ব্যবহার করে। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্যও সড়কটির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ব্রিজ ধসে পড়ায় বর্তমানে মানুষকে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাদিউল আলম বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। ব্রিজটি ধসে যাওয়ায় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা না হলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ জানান, “ব্রিজ ধসের খবর পাওয়ার পরপরই উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
এদিকে ব্রিজ ধসের ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করতে না পেরে এটি ধসে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) শ্রীপুর উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, “ব্রিজ ধসের বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”


