আজ মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকায় একটি টায়ার পাইরোলাইসিস কারখানা থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার দায়িত্বে থাকা এক কেয়ারটেকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কারখানার মালিক মো. কামরুজ্জামান গত ১ জুন স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাসিন্দা কামরুজ্জামান একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শ্রীপুরের টেক লক্ষ্মীপুর গ্রামে ‘টেকরাইজ বিডি লিমিটেড’ নামের এই কারখানা স্থাপন করেন। ২০১৮ সালে চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি করোনার সময় বন্ধ হয়ে গেলে তিনি অনিয়মিতভাবে তদারকি করতেন।

প্রায় এক বছর আগে জসিম উদ্দিন (৩২) ও তার পিতা আব্দুল হাকিম (৬০) নামের দুই ব্যক্তিকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনে কারখানার সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত ৩০ মে সকালে মালিক জানতে পারেন, কারখানা থেকে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে করে মূল্যবান যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন অধিকাংশ দামি যন্ত্রাংশ উধাও এবং কর্মচারীরা পলাতক।

তদন্তে জানা যায়, ২৭ মে রাত থেকে ৩০ মে ভোরের মধ্যে অভিযুক্তরা সহযোগীদের নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে। তারা ক্রেন ব্যবহার করে ভারী যন্ত্রপাতি ট্রাকে তুলে রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নেয়।

ক্ষয়ক্ষতির তালিকা অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি আমদানিকৃত পাইরোলাইসিস প্ল্যান্ট ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং ১ কোটি ১০ লাখ টাকার একটি জেনারেটরসহ মোট প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার মালামাল কারখানায় ছিল। তার অধিকাংশই চুরি হয়েছে।

চুরি যাওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে—১০ টন ধারণক্ষমতার দুটি পাইরোলাইসিস প্ল্যান্ট, অটো ফিডার রিয়্যাক্টর, ডিডাস্টিং সিস্টেম, ক্যাটালিস্ট চেম্বার, স্ট্যামফোর্ড জেনারেটর, ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রোল ক্যাবিনেট, স্টিল ওয়্যার সেপারেটর, বড় মোটর ও প্রচুর জিআই পাইপ।

ধারণা করা হচ্ছে, এসব সরঞ্জাম স্ক্র্যাপ বা চোরাই বাজারে বিক্রির জন্যই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন প্রথমে অসুস্থতার অজুহাত দেন এবং পরে ফোন বন্ধ করে দেন।

কারখানার মালিক কামরুজ্জামান বলেন, ‘ব্যাংকের ঋণ ও নিজের সঞ্চয়ে গড়া এই প্রকল্পটি লুট হয়ে যাওয়ায় আমি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।’ তিনি দ্রুত মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় থানার কর্মকর্তা জানান, প্রধান আসামি জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।

Exit mobile version