সাতক্ষীরার বিখ্যাত ও সুস্বাদু আম সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে সদর উপজেলার ফিংড়ি আম্রকাননে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই আম পাড়া উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আম সংগ্রহের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিষ্ণুপদ পাল বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এখানকার আম সবার আগে বাজারে আসে, ফলে এর চাহিদাও বেশি। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চিলিসহ বিভিন্ন দেশে সাতক্ষীরার আম রপ্তানি হচ্ছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে কেমিক্যালযুক্ত বা অপরিপক্ব আম বাজারজাত না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে ৬৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল। চলতি বছর ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন। জেলায় মোট আমবাগান রয়েছে ৩ হাজার ৫৫০টি এবং চাষির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার।
তবে আমের দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চাষিরা। আবু সাঈদ নামে এক আমচাষি জানান, গত বছর প্রতি মণ আম ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা কমে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় নেমে এসেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কারণে তারা লোকসানের আশঙ্কা করছেন এবং বাজার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর আম স্বাদে অনন্য। জেলায় আম চাষির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতের সুবিধার্থে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো দীর্ঘমেয়াদি জাতের আম চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরও জানান, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ইতোমধ্যে কয়েক টন কেমিক্যালযুক্ত আম ধ্বংস করা হয়েছে।
এছাড়া সাতক্ষীরায় একটি অত্যাধুনিক আম প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে সুপারিশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই বাজারে উঠেছে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও বৈশাখীসহ বিভিন্ন স্থানীয় জাতের আম।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন । প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত । মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪ ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com